← মূল পেজে ফিরে যান

কেন ইসরাইলকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ বলা হয়?

রিপোর্টার: জুনায়েদ আল হাবীব | প্রকাশিত: 25 Sep 2026, 08:05 PM | ক্যাটাগরি: অন্যান্য
News Image
ছবি ক্রেডিট: এআই দিয়ে বানানো
আপনি জানেন কি, পৃথিবীর মানচিত্রে ইসরাইলকে দেখলে দেশটিকে খুব বড় বা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ কোনো রাষ্ট্র মনে হবে না। দেশটির আয়তন ছোট, তেলের বিশাল মজুদ নেই এবং একসময় পানির সংকট ছিল তাদের অন্যতম বড় সমস্যা। তার ওপর স্বাধীনতার পর থেকেই ইসরাইলকে একের পর এক নিরাপত্তা সংকট ও সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এত সীমাবদ্ধতার পরও কীভাবে ইসরাইল প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও স্টার্টআপের ক্ষেত্রে এতটা এগিয়ে গেল? এর উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই আসবে মানুষের কথা। ইসরাইল খুব দ্রুত বুঝতে পেরেছিল, প্রাকৃতিক সম্পদ কম থাকলে মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতাকেই সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত করতে হবে। তাই শিক্ষা, বিজ্ঞান, সামরিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিকে তারা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের মধ্যে নিয়ে আসে। বিশেষ করে নিরাপত্তার প্রয়োজন থেকেই তৈরি হতে থাকে উন্নত গোয়েন্দা প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরবর্তীতে এসব প্রযুক্তির অনেকগুলো বেসামরিক ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যবহার হতে শুরু করে। পানির সংকটও ইসরাইলের জন্য একসময় বড় বাধা ছিল। কিন্তু তারা সমস্যাটিকে শুধু দুর্ভোগ হিসেবে দেখেনি। কীভাবে কম পানি ব্যবহার করে বেশি কৃষি উৎপাদন করা যায়, সেই প্রশ্ন থেকেই তৈরি ও জনপ্রিয় হয় ড্রিপ ইরিগেশনের মতো প্রযুক্তি। অর্থাৎ যে সমস্যাটি তাদের দুর্বলতা ছিল, সেটিই পরবর্তীতে একটি প্রযুক্তিগত সুবিধায় পরিণত হয়। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিন্তা দেখা যায়। রকেট হামলা মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয় Iron Dome-এর মতো প্রযুক্তি। আবার Mobileye-এর মতো ইসরাইলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দেখিয়েছে, গবেষণাগার থেকে তৈরি উদ্ভাবন কীভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশাল ব্যবসায় পরিণত হতে পারে। তবে প্রযুক্তি তৈরি করলেই হবে না, সেটিকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ। এখানেই ১৯৯০-এর দশকের Yozma প্রোগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইসরাইল সরকার নতুন প্রযুক্তি কোম্পানিতে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। এর ফলে দেশটির ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও স্টার্টআপ পরিবেশ দ্রুত বিকশিত হতে থাকে। এরই মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিপুল সংখ্যক ইহুদি অভিবাসী ইসরাইলে চলে আসে। তাদের মধ্যে বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদও ছিলেন অনেক। ফলে ছোট একটি দেশের প্রযুক্তি খাতে হঠাৎ করে যুক্ত হয় বিপুল পরিমাণ দক্ষ মানবসম্পদ। আজ তাই ইসরাইলের অর্থনৈতিক শক্তির গল্প শুধু যুদ্ধ বা অস্ত্রের গল্প নয়। এটি মূলত মানুষ, শিক্ষা, গবেষণা, বিনিয়োগ এবং সমস্যাকে উদ্ভাবনের সুযোগে পরিণত করার গল্প। তবে এখান থেকে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ইসরাইলের মডেল কোনো দেশের জন্য হুবহু কপি করার মতো নয়। প্রতিটি দেশের বাস্তবতা আলাদা। কিন্তু একটি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ: কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হলেও, যদি সেই দেশের মানুষ দক্ষ হয়, গবেষণায় বিনিয়োগ থাকে এবং নতুন ধারণাকে ব্যবসায় পরিণত করার সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে সীমিত সম্পদও বড় অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। ইসরাইলের উত্থান তাই দেখায়, একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সবসময় মাটির নিচে থাকে না—অনেক সময় সেই সম্পদ থাকে মানুষের মেধার মধ্যেই।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন