← মূল পেজে ফিরে যান
বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি কে?
রিপোর্টার: জুনায়েদ আল হাবীব |
প্রকাশিত: 16 Oct 2026, 08:20 PM |
ক্যাটাগরি: ভাইরাল ও ট্রেন্ডিং
ছবি ক্রেডিট: AI generated
পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ কে? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কখনোই নিশ্চিতভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের কথা উঠলে এমন একজনের নাম সামনে আসে, যাঁর বুদ্ধিমত্তা, ব্যবসায়িক সাহস এবং দূরদর্শিতার প্রশংসা করেছেন ইলন মাস্ক নিজেই। তিনি হলেন ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। কিন্তু কী এমন আছে এই মানুষটির মধ্যে, যার প্রতি মাস্কের এত শ্রদ্ধা? এর উত্তর লুকিয়ে আছে প্রযুক্তি, অর্থ, ঝুঁকি এবং বন্ধুত্বের এক অসাধারণ গল্পে।
ল্যারি এলিসনের জন্ম ১৯৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। তাঁর জীবন শুরু হয়েছিল কোনো বিলাসবহুল পরিবেশে নয়। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ওরাকল, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেজ ও ক্লাউড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। আজকের ডিজিটাল পৃথিবীতে ব্যাংকিং, ব্যবসা, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিশাল প্রযুক্তি কোম্পানি—অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তির পেছনে রয়েছে এমন সব সিস্টেম, যে খাতে ওরাকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এলিসনের সাফল্য শুধু অর্থ উপার্জনের গল্প নয়; এটি প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে নিজের অবস্থান তৈরি করার গল্প।
তবে এলিসনের ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক রয়েছে। তিনি প্রতিযোগিতা পছন্দ করেন, বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেন এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে আক্রমণাত্মক মনোভাবের জন্য পরিচিত। এই মানসিকতার সঙ্গে ইলন মাস্কের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়। একজন বৈদ্যুতিক গাড়ির ভবিষ্যৎ বদলাতে চান, অন্যজন বহু দশক ধরে প্রযুক্তির বাজারে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। দুজনের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও প্রচলিত সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করার প্রবণতা তাঁদের মধ্যে একটি মিল তৈরি করেছে।
কিন্তু এই সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়টি আসে ২০১৮ সালে। তখন টেসলা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কোম্পানির নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক, শেয়ারবাজারের চাপ এবং উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যা—সব মিলিয়ে মাস্কের জন্য সময়টা সহজ ছিল না। ঠিক সেই সময় এলিসন শুধু বন্ধুত্বের কথা বলেননি; নিজের অর্থও বিনিয়োগ করেছিলেন। তিনি টেসলার প্রায় ৩০ লাখ শেয়ার কিনেছিলেন, যার মূল্য সে সময় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ছিল। একই বছরের ডিসেম্বরে তিনি টেসলার পরিচালনা পর্ষদেও যোগ দেন।
এলিসনের এই সিদ্ধান্ত ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোনো প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের ওপর আস্থা রাখা আর সেই আস্থার পেছনে নিজের বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা এক বিষয় নয়। তবে এটাও মনে রাখা দরকার, তাঁর বোর্ডে যোগ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে টেসলার সমঝোতার অংশ ছিল। তাই ঘটনাটিকে শুধু বন্ধুত্বের ফল হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না।
মাস্কের প্রতি এলিসনের সমর্থন প্রকাশ্যেও দেখা গেছে। টেসলা ও স্পেসএক্স নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি মাস্কের কাজের পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর যুক্তির কেন্দ্রে ছিল একটি বিষয়—রকেট তৈরি করে সফলভাবে অবতরণ করানো যদি বাস্তব অর্জন হয়, তাহলে সেই কাজ করা মানুষকে অযোগ্য বলার আগে তার ফলাফলও বিবেচনা করা উচিত।
এখানেই এলিসনের প্রতি মাস্কের শ্রদ্ধার তাৎপর্য। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্ক ল্যারি এলিসন, ল্যারি পেজ এবং জেফ বেজোসকে তাঁর দেখা অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখ করেছিলেন। অর্থাৎ, মাস্কের চোখে বুদ্ধিমত্তা শুধু বড় বড় কথা বলা নয়; বরং জটিল সমস্যার সমাধান করে বাস্তবে বড় কিছু অর্জন করা।
আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং মহাকাশ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় এলিসন ও মাস্কের মতো উদ্যোক্তাদের প্রভাব শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পদে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁদের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করতে পারে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই সম্পর্ক কি নিছক বন্ধুত্ব, নাকি এর সঙ্গে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও ভবিষ্যতের কৌশলও জড়িয়ে আছে? বাস্তবতা হলো, বড় ব্যবসায় বন্ধুত্ব ও স্বার্থ কখনো কখনো একই জায়গায় এসে মেশে। আর সেই কারণেই ল্যারি এলিসন ও ইলন মাস্কের সম্পর্ক শুধু দুই ধনকুবেরের গল্প নয়; এটি আধুনিক প্রযুক্তিজগতের ক্ষমতা, অর্থ, আস্থা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতারও এক আকর্ষণীয় অধ্যায়।
এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল
জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ: