← মূল পেজে ফিরে যান

চীনের মহাপ্রাচীরের পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর এক ইতিহাস

রিপোর্টার: মেফতাহুর ইসলাম(মোরছালিন) | প্রকাশিত: 20 Sep 2026, 04:10 PM | ক্যাটাগরি: অন্যান্য
News Image
পৃথিবীতে এমন এক দেয়াল আছে, যার প্রতিটি ইট যেন লুকিয়ে রেখেছে যুদ্ধ, মৃত্যু আর হাজার বছরের ইতিহাস। পাহাড়ের পর পাহাড় পেরিয়ে, মরুভূমির কিনারা ছুঁয়ে এই দেয়াল চলে গেছে দিগন্তের দিকে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়—পৃথিবীর বুকের ওপর বিশাল কোনো সাপ নিঃশব্দে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেন তৈরি করা হয়েছিল এই ভয়ংকর বিশাল দেয়াল? শুধু শত্রুকে ঠেকানোর জন্য? নাকি এর পেছনে ছিল এমন এক সময়ের গল্প, যখন একটি সাম্রাজ্যকে টিকিয়ে রাখাই ছিল প্রতিদিনের যুদ্ধ? এটাই চীনের মহাপ্রাচীর। আজ এটি পৃথিবীর অন্যতম পরিচিত স্থাপনা। কিন্তু এর শুরুটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে, চীন তখন একক কোনো দেশ ছিল না। বিভিন্ন রাজ্য নিজেদের সীমান্ত রক্ষার জন্য আলাদা আলাদা প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরি করত। পরে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সম্রাট কিন শি হুয়াং চীনের বিভিন্ন রাজ্যকে একত্রিত করেন। এরপর পুরোনো অনেক প্রতিরক্ষা দেয়ালকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—উত্তর দিক থেকে আসা আক্রমণ ঠেকানো এবং বিশাল সাম্রাজ্যের সীমান্তকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। আজ যে বিশাল, শক্তিশালী মহাপ্রাচীরের ছবি আমরা দেখি, তার বড় অংশ তৈরি হয়েছিল বহু শতাব্দী পরে, মিং রাজবংশের সময়। তখন প্রাচীরের সঙ্গে তৈরি করা হয় অসংখ্য পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, দুর্গ এবং সামরিক ঘাঁটি। অর্থাৎ এটি শুধু একটি দেয়াল ছিল না—এটি ছিল বিশাল এক সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আর এর আকার? এখানেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য তথ্য। চীনের বিভিন্ন রাজবংশের তৈরি প্রাচীরের অংশ, শাখা ও প্রতিরক্ষা কাঠামো একসঙ্গে ধরলে এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি! অর্থাৎ মানুষের হাতে তৈরি এমন এক স্থাপনা, যার বিস্তার কল্পনা করাও কঠিন। কোথাও এটি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গেছে, কোথাও আবার নেমে গেছে গভীর উপত্যকার দিকে। পাথর, ইট, মাটি আর কাঠ দিয়ে তৈরি এই দেয়াল শত শত বছর ধরে সাম্রাজ্যের সীমান্ত পাহারা দিয়েছে। আর ছিল প্রহরীরা। উঁচু টাওয়ার থেকে তারা দূরের শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। বিপদের সংকেত পৌঁছে দেওয়া হতো এক প্রহরী টাওয়ার থেকে আরেকটিতে। তবে মহাপ্রাচীরকে ঘিরে সবচেয়ে জনপ্রিয় রহস্যগুলোর একটি হলো—এটি কি সত্যিই চাঁদ থেকে দেখা যায়? অনেক বছর ধরে এমন কথা প্রচলিত থাকলেও বাস্তবতা হলো, খালি চোখে চাঁদ থেকে এই প্রাচীর দেখা যায়—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এমনকি মহাকাশ থেকেও এটি সাধারণভাবে শনাক্ত করা সহজ নয়। তবুও এই বিশাল দেয়াল আজও মানুষকে অবাক করে। ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ভাবুন, হাজার হাজার বছর আগে এমন এক সময়ে মানুষ এই নির্মাণ শুরু করেছিল, যখন আজকের আধুনিক যন্ত্রপাতির কিছুই ছিল না। তারপরও পাহাড়ের বুক কেটে, দুর্গম পথ পেরিয়ে তারা তৈরি করেছিল এমন এক স্থাপনা, যার গল্প আজও শেষ হয়নি। কারণ চীনের মহাপ্রাচীর শুধু ইট-পাথরের দেয়াল নয়— এটি এক সাম্রাজ্যের ভয়, যুদ্ধ আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ের পাথরে লেখা ইতিহাস।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন