← মূল পেজে ফিরে যান

পাহাড় সমুদ্র আগ্নেয়গিরি, পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর পাঁচ রেলপথ

রিপোর্টার: মেফতাহুর ইসলাম(মোরছালিন) | প্রকাশিত: 20 Sep 2026, 12:17 PM | ক্যাটাগরি: অন্যান্য
News Image
ভাবুন তো—একটি ট্রেন ছুটছে হাজার হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ের বুক দিয়ে। এক পাশে গভীর খাদ, অন্য পাশে বিশাল সমুদ্র। কোথাও আবার রেললাইন চলে গেছে ব্যস্ত বাজারের দোকানের মাত্র কয়েক ইঞ্চি পাশ দিয়ে। শুনতে সিনেমার গল্প মনে হলেও, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এমন রেলপথ সত্যিই রয়েছে। আজকের গল্প এমনই পাঁচটি রেলপথকে ঘিরে, যেখানে ট্রেনে চড়া মানেই শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া নয়—বরং প্রকৃতি, উচ্চতা আর মানুষের তৈরি অসাধারণ প্রকৌশলের একসঙ্গে মুখোমুখি হওয়া। শুরু করা যাক আর্জেন্টিনার ‘ট্রেন এ লাস নুবেস’ দিয়ে। নামের অর্থ—মেঘের মধ্যে ট্রেন। উত্তর আর্জেন্টিনার পাহাড়ি অঞ্চলের এই রেলপথ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ২০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় উঠে যায়। পথে রয়েছে অসংখ্য টানেল, সেতু আর পাহাড় ঘুরে ওঠার জটিল ব্যবস্থা। এত উঁচুতে পৌঁছানোর কারণে চারপাশের দৃশ্য যেমন অবিশ্বাস্য, তেমনি উচ্চতার কারণে যাত্রীদের জন্য পরিবেশটিও বেশ কঠিন। এরপর রয়েছে ভারতের পাম্বান রেলপথ। একসময় এটি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে রামেশ্বরম দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। সমুদ্রের ওপর নির্মিত এই রেলসেতু দিয়ে ট্রেন চলার সময় দুই পাশে দেখা যায় শুধু বিশাল জলরাশি। প্রবল বাতাস, ঢেউ আর সামুদ্রিক পরিবেশের কারণে এখানকার যাত্রা অন্য যেকোনো সাধারণ রেলপথের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। পুরোনো সেতুর জায়গায় এখন নতুন আধুনিক রেলসেতুও নির্মিত হয়েছে। এবার চলুন ইকুয়েডরের আন্দিজ পর্বতমালায়। ‘ডেভিলস নোজ’ নামে পরিচিত এই রেলপথের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এর খাড়া পাহাড়। সরাসরি পাহাড় বেয়ে ওঠা সম্ভব না হওয়ায় রেললাইনকে জিগজ্যাগ বা সুইচব্যাক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ট্রেনকে কখনো সামনে, আবার কখনো পেছনের দিকে চালিয়ে ধাপে ধাপে উচ্চতা পরিবর্তন করতে হয়। পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে চলা এই পথ দেখলেই বোঝা যায়, প্রকৌশলীরা কতটা কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে এটি তৈরি করেছিলেন। আর থাইল্যান্ডে আছে এমন এক রেলপথ, যেখানে বিপদের দৃশ্য পাহাড়ে নয়—একেবারে বাজারের মাঝখানে। মায়েকলং রেলওয়ে মার্কেটের দোকানপাট রেললাইনের এত কাছে যে ট্রেন আসার সময় বিক্রেতাদের দ্রুত ছাউনি ও পণ্য সরিয়ে নিতে হয়। ট্রেন চলে যাওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরেই আবার আগের মতো বসে যায় বাজার। অর্থাৎ এখানে ট্রেন আর বাজার—দুটিই একই জায়গায় নিজেদের জায়গা ভাগ করে নিয়েছে। সবশেষে জাপানের আসো মিনামি রুট। এই রেলপথ অবস্থিত মাউন্ট আসোর আগ্নেয়গিরি অঞ্চলের কাছে। চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ হলেও আগ্নেয়গিরির উপস্থিতি এই পথকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এত ঝুঁকিপূর্ণ বলে পরিচিত জায়গাগুলোতে মানুষ এখনও যায় কেন? কারণ, সব রেলপথের উদ্দেশ্য এক নয়। কোথাও এটি পর্যটনের আকর্ষণ, কোথাও স্থানীয় মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম, আবার কোথাও ইতিহাস ও প্রকৌশলের এক জীবন্ত নিদর্শন। মানুষের কাছে এসব রেলপথ শুধু ভয় পাওয়ার জায়গা নয়; এগুলো প্রমাণ করে, অসম্ভব মনে হওয়া জায়গাতেও মানুষ কীভাবে যোগাযোগের পথ তৈরি করেছে। আর হয়তো এ কারণেই পৃথিবীর সবচেয়ে ভয় ধরানো রেলযাত্রাগুলোই কখনো কখনো হয়ে ওঠে সবচেয়ে স্মরণীয় ভ্রমণ।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন