← মূল পেজে ফিরে যান
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনের অজানা গল্প
রিপোর্টার: মেফতাহুর ইসলাম(মোরছালিন) |
প্রকাশিত: 18 Sep 2026, 06:49 PM |
ক্যাটাগরি: অন্যান্য
বাংলাদেশের মানচিত্রের একেবারে দক্ষিণে, বিশাল সমুদ্রের বুকের মধ্যে এমন একটি দ্বীপ আছে—যেখানে চারপাশে শুধু নীল জল, পায়ের নিচে প্রবালের অস্তিত্ব আর মাথার ওপর খোলা আকাশ। নাম সেন্ট মার্টিন। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই ছোট্ট দ্বীপটির পরিচয় শুধু পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস, প্রবাল, সামুদ্রিক প্রাণী আর হারিয়ে যেতে বসা এক অনন্য প্রকৃতি?
বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। টেকনাফ উপকূল থেকে সমুদ্রপথে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপের আয়তন খুব বেশি নয়। কোথাও সরু, কোথাও কিছুটা প্রশস্ত—দূর থেকে দেখলে মনে হয় সমুদ্রের মাঝখানে ভেসে থাকা সবুজ এক টুকরো ভূমি।
তবে সেন্ট মার্টিনের বর্তমান নামটি শুরু থেকেই এমন ছিল না। স্থানীয়ভাবে দ্বীপটি ‘জিঞ্জিরা’ বা ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামেও পরিচিত। প্রচুর নারিকেল গাছের কারণে এই নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধারণা করা হয়, উনিশ শতকের শেষ দিকে বাঙালি ও রাখাইন জেলেদের কয়েকটি পরিবার এখানে বসতি গড়ে তোলে। পরে ব্রিটিশ জরিপের সময় দ্বীপটি ‘সেন্ট মার্টিন’ নামে পরিচিতি পায়। নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন মত রয়েছে।
দ্বীপটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক লুকিয়ে আছে পানির নিচে। এখানে একসময় বিভিন্ন ধরনের প্রবাল, শামুক-ঝিনুক, সামুদ্রিক শৈবাল ও অসংখ্য মাছের সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র ছিল। সবুজ সাগর কাছিম ও জলপাইরঙা সাগর কাছিমও এই অঞ্চলে ডিম পাড়ে। অর্থাৎ পর্যটকদের চোখে যে দ্বীপ শুধু সূর্যাস্ত আর নীল সমুদ্রের সৌন্দর্য, প্রকৃতির চোখে সেটি আরও বড় একটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল।
দ্বীপের দক্ষিণ দিকে রয়েছে কেওড়া, ম্যানগ্রোভ ও নানা উপকূলীয় উদ্ভিদ। আর সেন্ট মার্টিনের কাছেই রয়েছে ছোট্ট ছেঁড়া দ্বীপ। ভাটার সময় এটি হেঁটে যাওয়ার মতো কাছে মনে হলেও জোয়ার এলে চারপাশের পানি পথটিকে বদলে দেয়।
এই দ্বীপের মানুষের জীবনও সমুদ্রনির্ভর। মাছ ধরা, মাছ শুকানো, নারিকেল ও সামুদ্রিক বিভিন্ন পণ্য বিক্রি—এসবই বহু মানুষের জীবিকার অংশ। পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে দ্বীপের অর্থনীতিও।
কিন্তু এই সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—প্রকৃতি কি সবসময় এমনই থাকবে?
অতিরিক্ত পর্যটন, বর্জ্য, পরিবেশের ওপর চাপ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন সেন্ট মার্টিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। তাই ২০২২ সালে দ্বীপসংলগ্ন ১,৭৪৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।
সমুদ্রের মাঝে ছোট্ট এই দ্বীপটি তাই শুধু ঘুরতে যাওয়ার জায়গা নয়। এটি বাংলাদেশের প্রকৃতি, ইতিহাস এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নীল পানির নিচে যে অদৃশ্য জগতটি লুকিয়ে আছে, সেটিই হয়তো সেন্ট মার্টিনের সবচেয়ে বড় রহস্য।
এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল
জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ: