← মূল পেজে ফিরে যান

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম যে দ্বীপে মৃতরাই পাহারা দেয় পুরো গ্রাম

রিপোর্টার: মেফতাহুর ইসলাম(মোরছালিন) | প্রকাশিত: 17 Sep 2026, 12:12 PM | ক্যাটাগরি: অন্যান্য
News Image
ভাবুন তো, পাহাড়ের এক নির্জন চূড়ায় বসে আছে কয়েকটি কালো, শুকিয়ে যাওয়া মানুষের দেহ। তারা নড়ছে না, কথা বলছে না—তবু স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, এই মৃত মানুষগুলো এখনো তাদের গ্রামকে পাহারা দিচ্ছে! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এমন দৃশ্য দেখা যায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ নিউ গিনির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে। দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৭ লাখ ৮৬ হাজার বর্গকিলোমিটার। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিউ গিনি রাজনৈতিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত—পূর্ব অংশ পাপুয়া নিউ গিনি এবং পশ্চিম অংশ ইন্দোনেশিয়ার অধীনে। তবে নিউ গিনিকে বিখ্যাত করেছে শুধু এর বিশাল আয়তন বা পাহাড় নয়। এই দ্বীপের কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে মৃতদেহ সংরক্ষণের এক অদ্ভুত ঐতিহ্য—যাকে বলা হয় ‘স্মোকড মমি’। পাপুয়া নিউ গিনির পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী আঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে এই ঐতিহ্যের সম্পর্ক রয়েছে। মিশরের মমির মতো মৃতদেহকে কাপড়ে মুড়িয়ে কবর দেওয়া হতো না। বরং বিশেষ পদ্ধতিতে দেহটিকে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হতো। মৃত্যুর পর দেহটিকে একটি কাঠ বা বাঁশের কাঠামোর ওপর বসানো হতো। এরপর নিচে আগুন জ্বালিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ধোঁয়া দেওয়া হতো। এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিল শরীরের ভেতরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেহকে শুকিয়ে ফেলা, যাতে দ্রুত পচন না ধরে। প্রক্রিয়াটি এখানেই শেষ নয়। সংরক্ষণের সময় শরীরের বিভিন্ন তরল বের করে দেওয়া এবং শরীরের কিছু খোলা অংশ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কাজও করা হতো বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধোঁয়ার মধ্যে থাকার পর দেহ কালচে ও শক্ত হয়ে যেত। এরপর এসব মমিকে গ্রামের আশপাশের উঁচু পাহাড়ি জায়গা বা পাথুরে খাঁজে বসিয়ে রাখা হতো। দূর থেকে তাকালে মনে হতো, পাহাড়ের ওপর কয়েকজন মানুষ নীরবে বসে পুরো গ্রামটির দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু কেন এমন করা হতো? এর পেছনে ছিল গভীর সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস। আঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস অনুযায়ী, পূর্বপুরুষদের দেহ যতটা সম্ভব অক্ষত থাকলে তাদের আত্মিক উপস্থিতিও বজায় থাকে। পাহাড়ের ওপর বসানো মমিগুলোকে তারা শুধু মৃতদেহ হিসেবে দেখত না; বরং পূর্বপুরুষের প্রতীক হিসেবে সম্মান করত। তাদের বিশ্বাস ছিল, এই পূর্বপুরুষরা ওপর থেকে গ্রাম ও আপনজনদের দিকে নজর রাখেন এবং বিপদের সময় সুরক্ষা দেন। নিউ গিনির আরেকটি বিস্ময়কর দিক হলো এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। এই দ্বীপে এক হাজারেরও বেশি ভাষা প্রচলিত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে এখানকার দুর্গম পাহাড়, ঘন বন এবং বিচ্ছিন্ন জনবসতি বহু প্রাচীন সংস্কৃতিকে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার সুযোগ দিয়েছে। আজ আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে নিউ গিনির যোগাযোগ অনেক বেড়েছে। তবুও দুর্গম কিছু এলাকায় পুরোনো ঐতিহ্যের চিহ্ন এখনো দেখা যায়। আর পাহাড়ের চূড়ায় বসে থাকা সেই কালো মমিগুলো যেন শুধু মৃত মানুষের দেহ নয়—তারা কয়েক শতাব্দীর পুরোনো এক সংস্কৃতির নীরব সাক্ষী।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন