← মূল পেজে ফিরে যান

চীনের যে ভয়ংকর রাস্তা বদলে দিয়েছে পুরো গ্রামের ভাগ্য

রিপোর্টার: মেফতাহুর ইসলাম(মোরছালিন) | প্রকাশিত: 15 Sep 2026, 10:45 AM | ক্যাটাগরি: অন্যান্য
News Image
এত উন্নত প্রযুক্তির দেশ চীন… অথচ এই গ্রামের রাস্তা দেখলে মনে হবে, মানুষ এখানে গাড়ি চালাচ্ছে মৃত্যুর কিনারায়! এক পাশে হাজার ফুট গভীর খাদ, অন্য পাশে খাড়া পাথরের পাহাড়। মাঝখানে এতটাই সরু একটি পথ—যেখানে সামান্য ভুল মানেই হতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চীনের মতো উন্নত একটি দেশে এমন রাস্তা আজও কেন রয়েছে? এই গ্রাম কি সত্যিই অবহেলিত? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে এমন এক গল্প, যা জানলে এই ভয়ংকর রাস্তাটাকেই অন্য চোখে দেখতে হবে? চীনের হেনান প্রদেশের তাইহাং পাহাড়ে অবস্থিত গুওলিয়াং গ্রাম। প্রায় ১,৭০০ মিটার উঁচু পাহাড়ের ওপর থাকা এই জনপদ একসময় বাইরের পৃথিবী থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। নিচের সমতলে যাওয়ার জন্য গ্রামবাসীদের ভরসা ছিল পাহাড়ের গায়ে কাটা প্রায় ৭২০টি খাড়া সিঁড়ি। প্রতিদিন সেই পথ পাড়ি দেওয়া ছিল জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার মতো। কিন্তু একসময় তারা সিদ্ধান্ত নিলেন—এই পাহাড় তাদের পৃথিবী থেকে আর আলাদা করে রাখতে পারবে না। ১৯৭০-এর দশকে মাত্র ১৩ জন গ্রামবাসী শুরু করলেন অসম্ভব এক কাজ। হাতে আধুনিক মেশিন নেই, নেই বড় কোনো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। শুধু হাতুড়ি, ছেনি আর নিজেদের শক্তি দিয়ে তারা পাহাড়ের পাথর ভাঙতে শুরু করলেন। দিনের পর দিন… মাসের পর মাস… বছরের পর বছর। অবশেষে প্রায় পাঁচ বছরের পরিশ্রমে পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি হলো প্রায় ১.২ কিলোমিটার দীর্ঘ গুওলিয়াং টানেল। কিন্তু টানেলের ভেতর ঢুকলেই বোঝা যায়, কেন এটি এত রোমাঞ্চকর। কোথাও মাথার ওপরে পাথরের ছাদ, কোথাও পাহাড়ের কিনারা ঘেঁষে রাস্তা, আবার কোথাও দেয়ালে কাটা বিশাল খোলা অংশ—যার ওপাশে তাকালেই নিচে দেখা যায় গভীর উপত্যকা। ভাবুন, আপনি একটি গাড়িতে বসে আছেন। সামনে সরু অন্ধকার টানেল, আর কয়েক মুহূর্ত পরেই হঠাৎ পাহাড়ের গায়ে খোলা একটি জানালা—তার ওপাশে শুধু শূন্যতা! তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই ভয়ংকর পথই একসময় গুওলিয়াং গ্রামের অভিশাপ ছিল, আর আজ সেটিই তাদের আশীর্বাদ। রাস্তা তৈরি হওয়ার পর ধীরে ধীরে বাইরের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে গ্রামটি। পাহাড়ি সৌন্দর্য আর ভয়ংকর টানেলের টানে বাড়তে থাকে পর্যটক। গড়ে ওঠে হোটেল, রেস্তোরাঁ, হোমস্টে ও নানা ব্যবসা। যে গ্রাম একসময় বিচ্ছিন্নতার কারণে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছিল, সেই গ্রামই পর্যটনের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ পেতে শুরু করে। তাই গুওলিয়াংয়ের এই রাস্তা শুধু একটি বিপজ্জনক পথ নয়। এটি ১৩ জন সাধারণ মানুষের অসাধারণ জেদের গল্প। এমন এক রাস্তার গল্প, যেটি তৈরি হয়েছিল বেঁচে থাকার জন্য—আর পরে সেটিই হয়ে উঠেছিল পুরো গ্রামের পরিচয়ের সবচেয়ে বড় অংশ। আর সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার? আজও যখন কোনো গাড়ি এই পাহাড়ের কিনারা ঘেঁষে এগিয়ে যায়, নিচের গভীর খাদ দেখে মনে হয়—এই রাস্তা যেন মানুষকে প্রতিটি মুহূর্তে মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রকৃতির সামনে প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, পাহাড়ের ভয় এখনও একই রকম ভয়ংকর। আপনার কী মনে হয়—এমন রাস্তা দিয়ে আপনি গাড়িতে যেতে সাহস করতেন?

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন