← মূল পেজে ফিরে যান

প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দেশ নাউরুর অদ্ভুত উত্থান-পতন

রিপোর্টার: মেফতাহুর ইসলাম(মোরছালিন) | প্রকাশিত: 14 Sep 2026, 07:37 PM | ক্যাটাগরি: অন্যান্য
News Image
ভাবুন তো, প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে এমন একটি ছোট্ট দেশ—যার সম্পদ একসময় তার নাগরিকদের পৃথিবীর অন্যতম উচ্চ জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু সেই সম্পদই শেষ পর্যন্ত দেশটিকে এমন অর্থনৈতিক সংকটে ফেলল, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হয়নি। দেশটির নাম—নাউরু। আয়তনে এতটাই ছোট যে মানচিত্রে খুঁজে পেতে চোখ আটকে যেতে পারে। অথচ এই ক্ষুদ্র দ্বীপের মাটির নিচে ছিল মূল্যবান ফসফেটের বিশাল ভাণ্ডার। মূলত সামুদ্রিক পাখির বিষ্ঠা দীর্ঘ সময় ধরে জমে তৈরি হয়েছিল এই ফসফেটের স্তর। আর সেই সম্পদকে কেন্দ্র করেই নাউরুর অর্থনীতির উত্থান। নাউরু একসময় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডের যৌথ প্রশাসনের অধীনে ছিল। পরে ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর ফসফেট সম্পদের ওপর স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়তে থাকে। খনি থেকে আসা বিপুল অর্থ নাউরুর নাগরিকদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনে। কিন্তু এখানেই গল্পের সবচেয়ে অদ্ভুত অধ্যায়। যে সম্পদ নাউরুকে সমৃদ্ধ করেছিল, সেটিই ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যেতে থাকে। বছরের পর বছর ফসফেট উত্তোলনের ফলে দ্বীপের বিশাল অংশের প্রাকৃতিক ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর যখন ফসফেটের মজুত কমতে শুরু করল, তখন দেশের আয়ের প্রধান উৎসও সংকুচিত হয়ে গেল। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা বিনিয়োগ তহবিলের অর্থও নানা ব্যর্থ বিনিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাপকভাবে কমে যায়। একসময় যে দেশ বিপুল সম্পদের মালিক ছিল, পরে তাকে মৌলিক সরকারি কার্যক্রম চালাতেও বাইরের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এই পতনের পেছনে পরিবেশগত ক্ষতিও ছিল বড় প্রশ্ন। ফসফেট খননের কারণে দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নাউরু ১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতাও হয়। আজ নাউরু বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবহুল স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর একটি। দেশটির সরকারি ভাষা নাউরুয়ান হলেও প্রশাসন ও ব্যবসায় ইংরেজির ব্যবহার ব্যাপক। খ্রিস্টান ধর্মও সেখানে প্রধান ধর্ম। তবে নাউরুর গল্প শুধু একটি ছোট দেশের গল্প নয়। এটি যেন সতর্কবার্তা—প্রাকৃতিক সম্পদ যত বড়ই হোক, তা যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া ব্যবহার করা হয়, তাহলে সম্পদের পাহাড়ও একদিন অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হতে পারে। আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয়—একসময় যে ফসফেট নাউরুকে সমৃদ্ধ করেছিল, আজ সেই খনন করা ভূমিই দেশটির অতীত সমৃদ্ধির সবচেয়ে দৃশ্যমান স্মৃতিগুলোর একটি।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন