← মূল পেজে ফিরে যান

বরফের নিচে লুকিয়ে আছে অ্যান্টার্কটিকার হারানো এক পৃথিবী

রিপোর্টার: মেফতাহুর ইসলাম(মোরছালিন) | প্রকাশিত: 11 Sep 2026, 11:37 AM | ক্যাটাগরি: অন্যান্য
News Image
পৃথিবীর এমন একটি জায়গা আছে, যেখানে মানুষের শহর নেই, নেই কোনো স্থায়ী বাসিন্দা—আছে শুধু বরফ, তীব্র বাতাস আর এমন ঠান্ডা, যেখানে কয়েক মিনিটের অসতর্কতাও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। জায়গাটির নাম অ্যান্টার্কটিকা। কিন্তু এই সাদা বরফের রাজ্য কি সত্যিই শুধু বরফ আর শীতের গল্প? দক্ষিণ মেরুকে ঘিরে থাকা অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ। প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মহাদেশের প্রায় ৯৯ শতাংশই বরফে ঢাকা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বিশাল একটি ভূখণ্ডে কোনো স্থায়ী দেশ বা নাগরিক নেই। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা গবেষণার প্রয়োজনে এখানে সাময়িকভাবে অবস্থান করেন। অ্যান্টার্কটিকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা ও শুষ্ক মহাদেশ বলা হয়। শুনতে অবাক লাগলেও এটি আসলে একটি বিশাল পোলার মরুভূমি। এখানে বৃষ্টিপাত অত্যন্ত কম, আর যে সামান্য আর্দ্রতা আসে, তার বেশিরভাগই বরফ হয়ে জমে থাকে। বিশাল বরফের চাদরের কারণে মহাদেশটির গড় উচ্চতাও পৃথিবীর অন্য মহাদেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে আছে এর অতীতে। আজ যেখানে চোখ মেললেই শুধু সাদা বরফ দেখা যায়, কোটি কোটি বছর আগে সেই অ্যান্টার্কটিকাই ছিল অনেক উষ্ণ। এটি একসময় গন্ডোয়ানা নামের বিশাল প্রাচীন ভূখণ্ডের অংশ ছিল। তখন এখানে গাছপালা ছিল, ছিল বনভূমি—এমনকি ডাইনোসরের অস্তিত্বেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ আজকের বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পৃথিবীর ইতিহাস। আর এই মহাদেশের প্রাণীদের জীবনও যেন বেঁচে থাকার এক অবিশ্বাস্য পরীক্ষা। এখানে সবচেয়ে পরিচিত প্রাণী এম্পেরর পেঙ্গুইন। শীতের ভয়াবহ সময়ে স্ত্রী পেঙ্গুইন একটি মাত্র ডিম দিয়ে খাবারের সন্ধানে সমুদ্রে চলে যায়। তখন পুরুষ পেঙ্গুইন ডিমটি নিজের পায়ের ওপর রেখে শরীরের বিশেষ চামড়ার ভাঁজ দিয়ে ঢেকে রাখে। তাপমাত্রা যখন মাইনাস ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি নেমে যেতে পারে, তখনও সে প্রায় দুই মাস না খেয়ে ডিমটি পাহারা দেয়। তবে অ্যান্টার্কটিকার গল্প শুধু রহস্য আর বেঁচে থাকার নয়—এটি পৃথিবীর ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মহাদেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বরফের পরিবর্তন ও গলন নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফভাণ্ডারের পরিবর্তন ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অ্যান্টার্কটিকা শুধু পৃথিবীর শেষ প্রান্তের বরফের দেশ নয়। বরফের প্রতিটি স্তরের নিচে লুকিয়ে আছে কোটি বছরের ইতিহাস—আর সেই বরফের ভবিষ্যৎ হয়তো নির্ধারণ করবে আমাদের পৃথিবীরও ভবিষ্যৎ।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন