← মূল পেজে ফিরে যান

সাপের দ্বীপ খালি করতে গিয়ে জাপানের ভয়ংকর ভুল সিদ্ধান্ত

রিপোর্টার: মেফতাহুর ইসলাম(মোরছালিন) | প্রকাশিত: 10 Sep 2026, 09:10 PM | ক্যাটাগরি: অন্যান্য
News Image
ভাবুন, একটি দ্বীপে বিষাক্ত সাপের আতঙ্ক এতটাই বেশি যে মানুষ সেই সাপ দমন করতে বাইরে থেকে শিকারি প্রাণী এনে ছাড়ল। কিন্তু কয়েক বছর পর দেখা গেল—সাপ নয়, সেই শিকারিই ধ্বংস করে দিচ্ছে দ্বীপের আসল বাসিন্দাদের! ঘটনাটি জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপের। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বিরল প্রাণীর জন্য পরিচিত এই দ্বীপ একসময় ভয়ংকর বিষাক্ত হাবু সাপের আবাসস্থল ছিল। সাপের কামড়ে প্রতিবছর শত শত মানুষ আক্রান্ত হতেন। তাই সাপের সংখ্যা কমাতে ১৯৭৯ সালে সেখানে প্রায় ৩০টি মুঙ্গুজ বা বেজি ছেড়ে দেওয়া হয়। মানুষের ধারণা ছিল খুব সহজ—সাপের সঙ্গে লড়াই করবে বেজি, আর দ্বীপ হয়ে উঠবে নিরাপদ। কিন্তু প্রকৃতি মানুষের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলেনি। হাবু সাপ মূলত রাতে সক্রিয়, আর মুঙ্গুজ সাধারণত দিনের বেলায় শিকার করে। ফলে সাপ আর বেজির সেই কাঙ্ক্ষিত লড়াই খুব একটা হলোই না। বরং বেজিরা খাবারের সন্ধানে দ্বীপের স্থানীয় প্রাণীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে শুরু করল। সবচেয়ে বড় বিপদ নেমে এলো বিরল আমামি খরগোশসহ স্থানীয় পাখি, সরীসৃপ ও অন্যান্য প্রাণীর ওপর। যে দ্বীপে দীর্ঘদিন বড় কোনো স্তন্যপায়ী শিকারি ছিল না, সেখানকার অনেক প্রাণী এমন নতুন শিকারির বিরুদ্ধে প্রায় অসহায় হয়ে পড়েছিল। আর সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়—মাত্র কয়েক ডজন থেকে মুঙ্গুজের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছে গেল। মানুষের একটি ছোট সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে পুরো বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হলো। তখন শুরু হলো ভুলের মাশুল গোনার পালা। জাপান সরকার মুঙ্গুজ নির্মূলের জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করে। বনজুড়ে ফাঁদ বসানো হয়, ক্যামেরা ট্র্যাপ ব্যবহার করা হয়, এমনকি প্রশিক্ষিত কুকুরও কাজে নামানো হয়। লক্ষ্য ছিল শুধু বেশিরভাগ বেজি ধরা নয়—শেষ বেজিটিকেও খুঁজে বের করা। কারণ একটি ছোট দলও আবার দ্রুত বংশবিস্তার করে আগের সংকট ফিরিয়ে আনতে পারত। দীর্ঘ বছরের কঠিন অভিযানের পর অবশেষে ২০২৪ সালে আমামি ওশিমাকে মুঙ্গুজ-মুক্ত ঘোষণা করা হয়। আজ এই দ্বীপের গল্প তাই শুধু বিষাক্ত সাপের গল্প নয়। এটি মানুষের একটি সিদ্ধান্ত কীভাবে একটি সম্পূর্ণ পরিবেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে, আর বিজ্ঞান ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ প্রচেষ্টা কীভাবে সেই ক্ষতি সামলে উঠতে পারে—তার এক অসাধারণ উদাহরণ। প্রকৃতির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কখনো কখনো প্রকৃতিকেই সবচেয়ে বড় বিপদে ফেলে দেয়। আমামি ওশিমার গল্প যেন সেই সত্যেরই জীবন্ত প্রমাণ।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন