← মূল পেজে ফিরে যান

কীভাবে জন্ম নিল আমাদের এই নীল পৃথিবী

রিপোর্টার: জুনায়েদ আল হাবীব | প্রকাশিত: 09 Sep 2026, 08:46 AM | ক্যাটাগরি: অন্যান্য
News Image
আজ আমরা যে পৃথিবীকে নীল সমুদ্র, সবুজ বন আর অসংখ্য প্রাণে ভরা একটি গ্রহ হিসেবে দেখি, তার শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে সূর্যের চারপাশে ঘুরে বেড়ানো ধুলো, পাথর ও গ্যাস ধীরে ধীরে একত্রিত হয়ে তৈরি করে পৃথিবী। তখন এই গ্রহ ছিল প্রচণ্ড উত্তপ্ত। চারদিকে ছিল গলিত শিলা, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত আর মহাকাশ থেকে ছুটে আসা অসংখ্য গ্রহাণুর আঘাত। জীবনের কোনো চিহ্ন তো ছিলই না, এমনকি আজকের পরিচিত সমুদ্র আর বায়ুমণ্ডলও ছিল না। সময়ের সঙ্গে পৃথিবী ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে শুরু করল। আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির সৃষ্টি করল। সেই পানি জমতে জমতে তৈরি হলো প্রাচীন মহাসাগর। কিন্তু তখনও পৃথিবী ছিল প্রাণহীন। এরপর কোনো এক সময় সমুদ্রের রাসায়নিক উপাদানগুলোর মধ্যে জটিল বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হলো প্রথম এককোষী জীব। তারা ছিল অতি ক্ষুদ্র, কিন্তু পৃথিবীর ভবিষ্যৎ তাদের হাত ধরেই বদলাতে শুরু করল। এই জীবদের একটি অংশ সূর্যের আলো ব্যবহার করে শক্তি তৈরি করতে পারত। এর ফলে ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন জমতে লাগল। কোটি কোটি বছরের এই পরিবর্তনের পর পৃথিবীতে জটিল প্রাণের বিকাশের সুযোগ তৈরি হলো। সমুদ্রে দেখা দিল নানা ধরনের প্রাণী। এরপর উদ্ভিদ স্থলভাগে ছড়িয়ে পড়ল। তাদের সঙ্গে স্থলে এল পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাণী। প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে আবির্ভাব ঘটল ডাইনোসরদের। শুরুতে তারা ছোট ও চটপটে হলেও বিবর্তনের ধারায় তাদের কিছু প্রজাতি পরিণত হলো বিশালাকার তৃণভোজী ও শক্তিশালী মাংসাশী প্রাণীতে। প্রায় ১৬ কোটি বছর ধরে পৃথিবীর স্থলভাগে তাদের আধিপত্য চলেছিল। কিন্তু প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে একটি বিশাল গ্রহাণুর আঘাত পৃথিবীর পরিবেশকে আমূল বদলে দেয়। ধুলো ও ধোঁয়ায় সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হয়, খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং বহু প্রাণীর সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যায় অ-এভিয়ান ডাইনোসররা। এই বিপর্যয়ের পর সুযোগ পায় স্তন্যপায়ী প্রাণীরা। কোটি কোটি বছরের বিবর্তনে তাদের মধ্য থেকেই বিকশিত হয় প্রাইমেট, আর বহু পরে আফ্রিকায় আবির্ভূত হয় আমাদের প্রজাতি—হোমো স্যাপিয়েন্স। প্রায় তিন লাখ বছর আগে জন্ম নেওয়া এই প্রাণী শারীরিক শক্তিতে অন্য অনেক প্রাণীর চেয়ে দুর্বল ছিল। কিন্তু তার ছিল ভাষা, কল্পনা, সহযোগিতা এবং শেখার অসাধারণ ক্ষমতা। মানুষ আফ্রিকা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ল। বরফ যুগের কঠিন পরিবেশেও তারা আগুন, পোশাক, অস্ত্র ও দলগত সহযোগিতার মাধ্যমে টিকে রইল। এরপর প্রায় ১২ হাজার বছর আগে কৃষির সূচনা মানুষের জীবনকে আবার বদলে দিল। যাযাবর জীবন ছেড়ে মানুষ স্থায়ী বসতি গড়তে শুরু করল। গ্রাম থেকে শহর, শহর থেকে রাষ্ট্র—এভাবেই জন্ম নিল সভ্যতা। মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু সভ্যতা এবং পৃথিবীর অন্যান্য প্রাচীন নগরগুলো মানুষকে নিয়ে গেল এক নতুন যুগে—লেখা, আইন, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও সংগঠিত সমাজের যুগে। অর্থাৎ পৃথিবীর ইতিহাস আসলে শুধু একটি গ্রহের ইতিহাস নয়। এটি আগুন থেকে সমুদ্র, এককোষী জীব থেকে মানুষ এবং বেঁচে থাকার সংগ্রাম থেকে সভ্যতা গড়ে তোলার এক অবিশ্বাস্য ৪৬০ কোটি বছরের যাত্রা।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন