← মূল পেজে ফিরে যান
World War 1 এ কীভাবে বদলে গেল মুসলিম বিশ্বের মানচিত্র?
রিপোর্টার: জুনায়েদ আল হাবীব |
প্রকাশিত: 06 Sep 2026, 12:11 PM |
ক্যাটাগরি: অন্যান্য
১৯১৪ সালের একটি যুদ্ধ শুধু ইউরোপের কয়েকটি দেশকে মুখোমুখি করেনি, এটি এমন একটি সাম্রাজ্যের পতনের পথ তৈরি করেছিল, যেটি শত শত বছর ধরে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি ছিল।
সেটি ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্য।
একসময় তিন মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত এই সাম্রাজ্য উনিশ শতকে এসে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ইউরোপীয় শক্তিগুলো একের পর এক নতুন অঞ্চল দখল করছিল, আর উসমানীয়দের ভেতরে চলছিল অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।
এর মধ্যেই ১৯১৪ সালে ইউরোপে ঘটে যায় এক হত্যাকাণ্ড। সারায়েভোতে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্ড নিহত হন। এরপর অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে একে একে রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
উসমানীয় সাম্রাজ্য প্রথমে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জার্মানির সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক এবং নিজেদের নিরাপত্তার হিসাব তাদের শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে টেনে আনে।
এরপর ১৯১৪ সালের শেষদিকে উসমানীয় নৌবাহিনী রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় ঘাঁটিতে হামলা চালায়। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। রাশিয়া, ব্রিটেন ও ফ্রান্স উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
এবার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে উসমানীয় ভূখণ্ডে।
তবে উসমানীয়রা সব জায়গায় পিছিয়ে যায়নি। ১৯১৫ সালের গ্যালিপলি অভিযানে ব্রিটিশ ও মিত্রবাহিনী দারদানেলস পেরিয়ে ইস্তাম্বুলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু উসমানীয় প্রতিরোধের মুখে সেই অভিযান ব্যর্থ হয়।
এটি ছিল উসমানীয়দের বড় বিজয়।
কিন্তু এই বিজয় সাম্রাজ্যকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
কারণ যুদ্ধ তখন শুধু সীমান্তে নয়, সাম্রাজ্যের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ছিল। আরব অঞ্চলে উসমানীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। মক্কার শরীফ হুসাইনের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহকে ব্রিটিশরা সমর্থন করে। ব্রিটিশ কর্মকর্তা টি. ই. লরেন্সও আরব বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেন।
ফলে উসমানীয়দের একসঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে লড়াই করতে হয়।
১৯১৭ সালে ব্রিটিশ বাহিনী বাগদাদ দখল করে। পরে জেরুজালেমও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। অন্যদিকে যুদ্ধের দীর্ঘ চাপ উসমানীয় অর্থনীতি ও সেনাবাহিনীকে ক্রমেই দুর্বল করে দিচ্ছিল।
অবশেষে ১৯১৮ সালে জার্মানি পরাজিত হলে উসমানীয় সাম্রাজ্যের অবস্থাও ভেঙে পড়ে।
কিন্তু আসল পরিবর্তন শুরু হয় যুদ্ধের পর।
উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিশাল অঞ্চল বিজয়ী শক্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। আরব ভূখণ্ডগুলো নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ভাগ হতে থাকে। বহু পুরনো সীমান্ত মুছে গিয়ে তৈরি হয় নতুন রাষ্ট্র ও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।
১৯২২ সালে উসমানীয় সুলতানাত বিলুপ্ত হয়।
আর মাত্র দুই বছর পর, ১৯২৪ সালে, তুরস্কের নতুন প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় খেলাফতও আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়।
তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে শুধু একটি সামরিক সংঘর্ষ হিসেবে দেখলে পুরো গল্পটা বোঝা যাবে না।
উসমানীয় খেলাফতের পতনের পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক বিভাজন, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, ইউরোপীয় শক্তির হস্তক্ষেপ এবং শেষ পর্যন্ত একটি ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধ।
একটি সাম্রাজ্য কয়েক শত বছর টিকে থাকতে পারে, কিন্তু যখন ভেতরের দুর্বলতা আর বাইরের চাপ একই সময়ে আঘাত করে—তখন পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা হয়ে যায়।
এমন আরও অজানা ইতিহাসের গল্প ও বিশ্বের বড় ঘটনার নেপথ্যের কাহিনী জানতে চোখ রাখুন জাতীয় জার্নাল-এ।
এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল
জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ: