← মূল পেজে ফিরে যান

রাশিয়া কেন আলাস্কা বিক্রি করেছিল?

রিপোর্টার: সালমা জাহান | প্রকাশিত: 07 Oct 2026, 08:42 AM | ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক
News Image
ছবি ক্রেডিট: এআই
ভাবুন তো, আজকের বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া একসময় উত্তর আমেরিকার বিশাল একটি ভূখণ্ডের মালিক ছিল। সেই ভূখণ্ডই আলাস্কা। কিন্তু ১৮৬৭ সালে রাশিয়া মাত্র ৭২ লাখ ডলারের বিনিময়ে আলাস্কাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। আজকের দৃষ্টিতে সিদ্ধান্তটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও, তখন রাশিয়ার সামনে ছিল অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক ঝুঁকি এবং ভৌগোলিক বাস্তবতার মতো বেশ কয়েকটি কঠিন কারণ। আলাস্কা বিক্রির পেছনে সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি ছিল ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পর রাশিয়ার আর্থিক চাপ। ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৬ সালের ওই যুদ্ধে রাশিয়া ব্রিটেন, ফ্রান্স ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সাম্রাজ্যের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছিল। ফলে সরকার নতুন অর্থের উৎস খুঁজছিল এবং দূরবর্তী আলাস্কা তখন আর আগের মতো লাভজনক সম্পদ ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে ঘিরে রাশিয়ার আশঙ্কা। আলাস্কার দক্ষিণ ও পূর্বে ছিল ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত কানাডা। ভবিষ্যতে রাশিয়া ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে আলাস্কা রক্ষা করা কঠিন হতে পারে—এমন চিন্তা রুশ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ছিল। কারণ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে আলাস্কা ছিল হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে। সমুদ্রপথে যোগাযোগ, সৈন্য পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। আলাস্কার অর্থনৈতিক গুরুত্বও তখন সীমিত হয়ে পড়েছিল। রুশদের প্রধান আগ্রহ ছিল সামুদ্রিক পশুর মূল্যবান পশমের ব্যবসায়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শিকারের কারণে ওই বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে আলাস্কায় রাশিয়ার স্থায়ী বসতি ও জনসংখ্যা ছিল খুবই কম। বিশাল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করেও সেখান থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ আয় পাওয়া যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া বুঝতে পারে, আলাস্কা ধরে রাখার চেয়ে তা বিক্রি করে অর্থ পাওয়া এবং সম্ভাব্য শত্রুর হাতে অঞ্চলটি হারানোর ঝুঁকি কমানো বেশি বাস্তবসম্মত। ১৮৬৭ সালের ৩০ মার্চ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে আলাস্কার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যায়। প্রতি একর জমির হিসাবে দাম পড়েছিল প্রায় দুই সেন্ট। কিন্তু এখানেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোড়। চুক্তির সময় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও এই কেনাকাটা নিয়ে সবাই উৎসাহী ছিল না; কেউ কেউ এটিকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বলে সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী দশকগুলোতে আলাস্কার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব দ্রুত বদলে যায়। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, পরে আলাস্কার মাটির নিচে সোনা, তেলসহ বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান মেলে। তখন অনেকের চোখে ৭২ লাখ ডলারের সেই চুক্তি অসম্ভব সস্তা বলে মনে হতে শুরু করে। তবে রাশিয়া যখন আলাস্কা বিক্রি করেছিল, তখন ভবিষ্যতের এই সম্পদের বিশাল মূল্য সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল না। তাই ইতিহাসের একসময়কার ‘বরফের দূরবর্তী ভূখণ্ড’ আজ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আজ আলাস্কার দিকে তাকালে বোঝা যায়, একটি ভূখণ্ডের মূল্য সময়ের সঙ্গে কতটা বদলে যেতে পারে।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন