← মূল পেজে ফিরে যান
ফুকুশিমায় পারমাণবিক বিপর্যয় কীভাবে ঘটেছিল?
রিপোর্টার: সালমা জাহান |
প্রকাশিত: 05 Oct 2026, 08:10 PM |
ক্যাটাগরি: প্রযুক্তি ও জীবনযাপন
ছবি ক্রেডিট: এআই
একটা ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান। পারমাণবিক চুল্লিগুলোও সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, বড় বিপদ হয়তো আর নেই। কিন্তু কয়েক মিনিট পর সমুদ্র থেকে ছুটে এলো বিশাল এক সুনামি। পানি ঢুকে গেল ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে, বন্ধ হয়ে গেল জরুরি কুলিং ব্যবস্থা। এরপর চুল্লির ভেতর বাড়তে থাকল তাপ, শুরু হলো কোর মেল্টডাউন। কিন্তু কীভাবে একটি ভূমিকম্প থেকে তৈরি হলো বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়?
ঘটনার শুরু হয় ২০১১ সালের ১১ মার্চ, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে। জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে প্রায় ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। কম্পন শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুকুশিমার ১, ২ ও ৩ নম্বর সচল চুল্লিতে পারমাণবিক ফিশন বিক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বাইরে থেকে মনে হচ্ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে।
কিন্তু পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ হয়ে গেলেই তার ভেতরের তাপ একেবারে শেষ হয়ে যায় না। জ্বালানি থেকে তখনও প্রচুর অবশিষ্ট তাপ তৈরি হচ্ছিল। সেই তাপ কমিয়ে রাখতে কুলিং ব্যবস্থা চালু থাকা জরুরি। ভূমিকম্পের কারণে বাইরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে জরুরি ডিজেল জেনারেটরগুলো কুলিং ব্যবস্থা চালানোর দায়িত্ব নেয়।
এরপর আসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।
ভূমিকম্পের প্রায় ৫০ মিনিট পর বিশাল সুনামি আঘাত হানে ফুকুশিমায়। জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধক দেয়াল টপকে পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পড়ে। পানিতে ডুবে যায় জরুরি জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বড় অংশ। ফলে কেন্দ্রটি প্রায় সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
বিদ্যুৎ না থাকায় চুল্লির কুলিং ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি। ধীরে ধীরে চুল্লির ভেতরের পানির স্তর কমতে থাকে এবং জ্বালানি রড অতিরিক্ত তাপের মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১, ২ ও ৩ নম্বর ইউনিটের কোরের বড় অংশ গলে যায়। অর্থাৎ ঘটে যায় ভয়াবহ কোর মেল্টডাউন।
তীব্র তাপের কারণে জ্বালানি রডের আবরণ ও বাষ্পের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিপুল হাইড্রোজেন তৈরি হয়। চাপ কমানোর জন্য চুল্লি থেকে গ্যাস বের করার পর এই হাইড্রোজেন ভবনের ভেতরে জমে বিস্ফোরণ ঘটায়। ১, ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের ভবন এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাস ও সমুদ্রের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর আশপাশের বিশাল এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক ঘটনা স্কেলে সর্বোচ্চ লেভেল ৭ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়—চেরনোবিলের সঙ্গে একই সর্বোচ্চ স্তরে।
তবে ফুকুশিমার ঘটনা শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের গল্প নয়। পরবর্তী তদন্তে দেখা যায়, সুনামির ঝুঁকি সম্পর্কে নিরাপত্তা প্রস্তুতির ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল। অর্থাৎ ভূমিকম্প চুল্লি বন্ধ করেছিল, কিন্তু সুনামি কেড়ে নিয়েছিল সেই চুল্লিগুলো ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ফুকুশিমার ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়।
এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল
জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ: