← মূল পেজে ফিরে যান

কেন তৈরি হচ্ছে জেদ্দা টাওয়ার?

রিপোর্টার: সালমা জাহান | প্রকাশিত: 12 Oct 2026, 09:23 AM | ক্যাটাগরি: প্রযুক্তি ও জীবনযাপন
News Image
ছবি ক্রেডিট: এআই
ভাবুন তো, এমন একটি ভবন, যার উচ্চতা হবে এক কিলোমিটারেরও বেশি! মাটি থেকে আকাশের দিকে উঠে যাওয়া এই বিশাল স্থাপনার সামনে দাঁড়ালে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফাও যেন ছোট হয়ে যাবে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও, সৌদি আরবে বাস্তবায়ন হচ্ছে এমনই এক প্রকল্প, যার নাম জেদ্দা টাওয়ার। কিন্তু কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই আকাশছোঁয়া ভবন? আর এর নির্মাণকাজ শেষ হলে বিশ্ব স্থাপত্যের চিত্র কতটা বদলে যাবে? সৌদি আরবের লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী জেদ্দা শহরের উত্তর অংশে নির্মাণ করা হচ্ছে জেদ্দা টাওয়ার। এটি আগে কিংডম টাওয়ার নামেও পরিচিত ছিল। বিশাল জেদ্দা ইকোনমিক সিটি প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিকল্পিত এই ভবন শুধু উচ্চতার রেকর্ড গড়ার জন্য নয়, বরং ব্যবসা, পর্যটন ও আধুনিক নগরজীবনের নতুন একটি কেন্দ্র তৈরির লক্ষ্যেও নির্মিত হচ্ছে। টাওয়ারটির নকশা করেছেন বিখ্যাত স্থপতি আদ্রিয়ান স্মিথ ও গর্ডন গিল। আদ্রিয়ান স্মিথ এর আগে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার নকশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। জেদ্দা টাওয়ারের পরিকল্পিত উচ্চতা এক হাজার মিটারের বেশি। অন্যদিকে, বুর্জ খলিফার উচ্চতা ৮২৮ মিটার। অর্থাৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণ সম্পন্ন হলে জেদ্দা টাওয়ার বুর্জ খলিফাকে প্রায় ১৮০ মিটার বা তারও বেশি উচ্চতায় ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এই প্রকল্পের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও বিভিন্ন জটিলতা ও করোনা মহামারির প্রভাবে কাজ দীর্ঘ সময় থমকে যায়। অবশেষে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ নতুন করে জোর গতিতে শুরু হয়। ২০২৬ সালের অক্টোবরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাওয়ারটি ১১৮তম তলা অতিক্রম করেছে এবং এর উচ্চতা প্রায় ৪৭৪ মিটারে পৌঁছেছে। বর্তমানে নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য ২০২৮ সালের শেষ দিকে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী নির্মাণ অগ্রগতির ওপর। এত উঁচু ভবন তৈরি করা শুধু কংক্রিট আর ইস্পাত জোড়া লাগানোর বিষয় নয়। যত ওপরে ওঠা যায়, বাতাসের চাপ ও ভবনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও তত বাড়ে। তাই জেদ্দা টাওয়ারের নকশায় এমন আকৃতি রাখা হয়েছে, যা উচ্চতায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সরু হয়ে আসে। এর ফলে বাতাসের প্রভাব সামলাতে কাঠামোটিকে সহায়তা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবনটির আরেকটি আকর্ষণ হবে এর ১৫৭তম তলায় প্রায় ৬৫২ মিটার উচ্চতায় নির্মিত পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকে দর্শনার্থীরা জেদ্দা শহর ও লোহিত সাগরের বিস্তৃত দৃশ্য দেখতে পারবেন। পাশাপাশি থাকবে ৫৯টি লিফট, যার মধ্যে দ্রুতগতির ও ডাবল-ডেকার লিফটও রয়েছে। এসব লিফটের সর্বোচ্চ পরিকল্পিত গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ মিটার। জেদ্দা টাওয়ারের ভেতরে থাকবে বিলাসবহুল ফোর সিজনস হোটেল, আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, অফিস এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক সুবিধা। অর্থাৎ এটি শুধু একটি উঁচু ভবন নয়, বরং একই স্থানে বসবাস, কাজ ও পর্যটনের সুযোগ তৈরি করার একটি বৃহৎ পরিকল্পনা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জেদ্দা টাওয়ার সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের স্বীকৃতি পেতে পারে। তবে এর প্রকৃত সাফল্য শুধু উচ্চতার রেকর্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এত বিশাল স্থাপনাকে নিরাপদ, কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলাই হবে প্রকৌশলীদের বড় পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, আকাশ ছোঁয়ার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়!

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন