← মূল পেজে ফিরে যান

এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার কীভাবে কাজ করে?

রিপোর্টার: সালমা জাহান | প্রকাশিত: 05 Oct 2026, 05:40 PM | ক্যাটাগরি: প্রযুক্তি ও জীবনযাপন
News Image
ছবি ক্রেডিট: এআই
ভাবুন তো, সমুদ্রের মাঝখানে এমন একটি যুদ্ধজাহাজ দাঁড়িয়ে আছে, যার ওপর থেকেই একের পর এক যুদ্ধবিমান আকাশে উড়ে যাচ্ছে! আবার সেই বিমানগুলো মিশন শেষে ফিরে এসে সমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর ভাসতে থাকা সেই জাহাজেই অবতরণ করছে। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, আধুনিক সামরিক শক্তিতে এমন দৃশ্যই বাস্তব। এই বিশাল জাহাজের নাম এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা বিমানবাহী রণতরী। সহজভাবে বললে, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার হলো সমুদ্রের ওপর তৈরি একটি চলমান বিমানঘাঁটি। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিশাল ফ্লাইট ডেক, যেখানে যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ওঠানামা করে। একটি দেশের স্থলভাগ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরেও এই জাহাজ নিজের সঙ্গে বিমান নিয়ে যেতে পারে। ফলে কোনো অঞ্চলে আলাদা বিমানঘাঁটি তৈরি না করেও সেখান থেকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব। তবে ক্যারিয়ারের ওপর বিমান ওঠানো বা নামানো মোটেও সহজ কাজ নয়। কারণ স্থলভাগের বিমানবন্দরের মতো এখানে কয়েক কিলোমিটার লম্বা রানওয়ে নেই। জায়গা খুব সীমিত। তাই কিছু ক্যারিয়ারে বিমানকে দ্রুত গতিতে আকাশে তুলে দিতে ক্যাটাপল্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। আর অবতরণের সময় বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারে থাকা বিশেষ হুক ডেকের ওপর টানানো শক্তিশালী তারে আটকে যায়। এতে অল্প দূরত্বের মধ্যেই বিমান থেমে যেতে পারে। একটি আধুনিক সুপারক্যারিয়ার দেখতে শুধু বিশাল নয়, ভেতর থেকেও অনেকটা ছোটখাটো শহরের মতো। এর নিচে থাকে বিমানের জন্য বিশাল হ্যাঙ্গার, রক্ষণাবেক্ষণের জায়গা, জ্বালানি ও গোলাবারুদের ব্যবস্থা। বিশেষ লিফটের মাধ্যমে বিমানকে হ্যাঙ্গার থেকে ফ্লাইট ডেকে তোলা হয়। একই জাহাজে হাজার হাজার নাবিক, পাইলট, প্রকৌশলী ও অন্যান্য কর্মী দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস ও কাজ করেন। ক্যারিয়ারের শক্তির উৎসও এর ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিছু ক্যারিয়ার প্রচলিত জ্বালানিতে চলে, আবার কিছু অত্যাধুনিক ক্যারিয়ারে পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার সক্ষমতা পাওয়া যায় এবং বারবার জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। কিন্তু এত বড় ও মূল্যবান একটি যুদ্ধজাহাজ কখনোই একা সমুদ্রে ঘোরে না। এর চারপাশে থাকে ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার, সাবমেরিন ও সরবরাহকারী জাহাজ। কেউ আকাশপথে নজর রাখে, কেউ শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত করে, আবার কেউ প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করে। পুরো বহরকে একসঙ্গে বলা হয় ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। এ কারণেই একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার শুধু একটি জাহাজ নয়, বরং একটি দেশের সামরিক শক্তিকে পৃথিবীর দূরবর্তী অঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়ার বিশাল মাধ্যম। যুদ্ধের পাশাপাশি দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা সহায়তা ও জরুরি সরবরাহ পৌঁছাতেও এই ভাসমান ঘাঁটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ সমুদ্রের ওপর ভাসতে থাকা এই বিশাল জাহাজটি আসলে একই সঙ্গে একটি বিমানঘাঁটি, সামরিক ঘাঁটি এবং চলমান কমান্ড সেন্টার।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন