← মূল পেজে ফিরে যান

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বিশালত্ব কতটা?

রিপোর্টার: সালমা জাহান | প্রকাশিত: 04 Oct 2026, 12:42 PM | ক্যাটাগরি: প্রযুক্তি ও জীবনযাপন
News Image
ছবি ক্রেডিট: গুগল
ভাবুন তো, রাতের আকাশে যে অসংখ্য তারা আমরা দেখি, সেগুলোর বিশাল একটা অংশ আসলে একই মহাজাগতিক পরিবারের সদস্য। আর সেই পরিবারের নাম মিল্কিওয়ে, বা আকাশগঙ্গা। মজার ব্যাপার হলো, আমরা এই গ্যালাক্সির বাইরে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছি না—আমরা নিজেরাই এর ভেতরে আছি। কিন্তু এই গ্যালাক্সি আসলে কত বড়? এর কেন্দ্রে কী আছে? আর আমাদের পৃথিবীই বা কোথায়? মিল্কিওয়ে হলো একটি বিশাল বার্ড স্পাইরাল গ্যালাক্সি। সহজ করে বললে, এর মাঝখানে রয়েছে লম্বা দণ্ডের মতো একটি কাঠামো, আর সেটাকে ঘিরে গ্যাস, ধূলিকণা ও অসংখ্য নক্ষত্র সর্পিলভাবে ছড়িয়ে আছে। পরিষ্কার রাতে আকাশে যে আবছা সাদা আলোর রেখা দেখা যায়, সেটাই আসলে আমাদের গ্যালাক্সির একটি অংশ। তবে আমরা এর ভেতরে থাকায় পুরো মিল্কিওয়েকে বাইরে থেকে দেখার সুযোগ আমাদের নেই। আমাদের সৌরজগৎও গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছে নয়। সূর্যকে নিয়ে আমরা কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে, অরিয়ন স্পারের একটি অঞ্চলে অবস্থান করছি। অর্থাৎ, পৃথিবী থেকে যত দূরেই তাকাই না কেন, আমরা এখনও মিল্কিওয়ের ভেতরেই আছি। এবার আসল ব্যাপারটা হলো এর আকার। মিল্কিওয়ের দৃশ্যমান চাকতির ব্যাস প্রায় এক লাখ আলোকবর্ষ। আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার ছুটতে পারে। তারপরও এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে আলোর প্রায় এক লাখ বছর লাগবে। শুধু আকার নয়, এর ভেতরে থাকা নক্ষত্রের সংখ্যাও অবিশ্বাস্য। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মিল্কিওয়েতে কয়েকশ বিলিয়ন নক্ষত্র থাকতে পারে। আমাদের সূর্য সেই বিশাল সংখ্যার মধ্যে মাত্র একটি। আর সূর্যও কিন্তু এক জায়গায় স্থির হয়ে নেই। পুরো সৌরজগৎকে সঙ্গে নিয়ে এটি মিল্কিওয়ের কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে। একবার পুরো চক্কর দিতে সময় লাগে প্রায় ২২ থেকে ২৪ কোটি বছর। অর্থাৎ, পৃথিবীতে মানুষের সভ্যতার পুরো ইতিহাস মিলিয়েও সূর্যের একটি গ্যালাক্টিক চক্করের তুলনায় তা খুবই সামান্য সময়। মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের সবচেয়ে আলোচিত বস্তু হলো স্যাজিট্যারিয়াস এ*। এটি একটি অতিভরযুক্ত কৃষ্ণগহ্বর। এর মহাকর্ষীয় প্রভাব এত শক্তিশালী যে কেন্দ্রের আশপাশের নক্ষত্র ও গ্যাস এর চারপাশে দ্রুত ঘুরে বেড়ায়। তবে মিল্কিওয়ে একা নয়। এটি লোকাল গ্রুপ নামের একটি গ্যালাক্সি পরিবারের অংশ। এই পরিবারের সবচেয়ে পরিচিত বড় প্রতিবেশী হলো অ্যান্ড্রোমিডা। দুটি গ্যালাক্সি পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসছে এবং কয়েক বিলিয়ন বছর পর তাদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও একীভবন ঘটতে পারে। তখন রাতের আকাশের চেহারাও অনেক বদলে যেতে পারে। ভাবুন, এত বিশাল একটি গ্যালাক্সির ভেতর আমাদের পৃথিবী আসলে কতটা ছোট। আর সেই মিল্কিওয়েও আবার মহাবিশ্বের অগণিত গ্যালাক্সির মধ্যে মাত্র একটি। তবু এই ছোট্ট পৃথিবী থেকেই মানুষ সেই বিশাল মহাবিশ্বের রহস্য খুঁজে চলেছে।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন