← মূল পেজে ফিরে যান

হামাসের সুড়ঙ্গ এত বিশাল কেন?

রিপোর্টার: সালমা জাহান | প্রকাশিত: 04 Oct 2026, 12:33 PM | ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক
News Image
ছবি ক্রেডিট: গুগল
ভাবুন, আপনি গাজার একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। চোখের সামনে শুধু ভাঙা ভবন আর ধ্বংসের চিহ্ন। কিন্তু ঠিক আপনার পায়ের নিচেই যদি থাকে এমন এক বিশাল পথ, যেখানে মানুষ চলাচল করতে পারে, অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরানো যায়, এমনকি যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও চালানো সম্ভব—তাহলে বিষয়টি কতটা ভয়ংকর জটিল? গাজার মাটির নিচে থাকা হামাসের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ককে ঘিরে ঠিক এমনই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল একে ধ্বংস করতে বছরের পর বছর অভিযান চালালেও, পুরো নেটওয়ার্কের প্রকৃত বিস্তৃতি এখনও স্পষ্ট নয়। এই ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ককে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ‘গাজা মেট্রো’ নামেও উল্লেখ করা হয়। এটি কোনো একক সুড়ঙ্গ নয়; বরং অসংখ্য পথ, কক্ষ, সংযোগস্থল এবং প্রবেশপথের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি জটিল ব্যবস্থা। হামাস দীর্ঘ সময় ধরে এর বিভিন্ন অংশ তৈরি ও সম্প্রসারণ করেছে বলে ইসরায়েল এবং বিভিন্ন সামরিক সূত্রের দাবি। সুড়ঙ্গগুলোর মোট দৈর্ঘ্য নিয়ে নির্ভরযোগ্য একক কোনো হিসাব নেই। বিভিন্ন অনুমানে এর বিস্তৃতি কয়েকশ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে যুদ্ধের কারণে পুরো নেটওয়ার্ক সরাসরি পরীক্ষা করা কঠিন হওয়ায় এসব সংখ্যাকে আনুমানিক হিসাব হিসেবেই দেখা হয়। ভেতরের কাঠামোও বেশ বৈচিত্র্যময়। কিছু পথ সরু, আবার কিছু অংশ তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ, আলো, যোগাযোগ এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোথাও আবার এমন কক্ষের সন্ধান মিলেছে, যেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার ব্যবস্থা ছিল বলে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে। এই সুড়ঙ্গগুলোর সামরিক ব্যবহারই বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। হামাস এগুলো ব্যবহার করে যোদ্ধা ও সরঞ্জাম সরানো, যোগাযোগ বজায় রাখা এবং বিমান হামলার সময় সুরক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে ইসরায়েলের দাবি। একই সঙ্গে কিছু সুড়ঙ্গকে অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও বলা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মাটির ওপরে থাকা যুদ্ধক্ষেত্রের তুলনায় ভূগর্ভস্থ যুদ্ধ সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি সুড়ঙ্গ কোথায় শুরু হয়েছে, কোথায় শেষ হয়েছে কিংবা অন্য কোন পথের সঙ্গে যুক্ত—সবকিছু শনাক্ত করা কঠিন। ফলে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য এই নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা একটি জটিল সামরিক অভিযান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে সুড়ঙ্গ ধ্বংস ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে। বিভিন্ন অভিযানে সুড়ঙ্গ শনাক্ত ও ধ্বংসের জন্য বিস্ফোরক, ভারী সামরিক সরঞ্জাম, রোবোটিক প্রযুক্তি এবং অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। কিন্তু পুরো নেটওয়ার্কের কতটা ধ্বংস হয়েছে, আর কতটা এখনও কার্যকর—তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে নেই। যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং মাটির নিচে প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে তথ্য যাচাই করাও কঠিন। তাই গাজার এই সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক আসলে কতটা বিস্তৃত, তার পুরো চিত্র এখনও অজানা। তবে এটি দেখিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধে শুধু আকাশ বা মাটির নিয়ন্ত্রণই নয়—মাটির নিচের একটি অদৃশ্য নেটওয়ার্কও পুরো যুদ্ধের কৌশল বদলে দিতে পারে।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন