← মূল পেজে ফিরে যান
MH370 ফ্লাইটটির কী হয়েছিল?
রিপোর্টার: সালমা জাহান |
প্রকাশিত: 03 Oct 2026, 12:55 PM |
ক্যাটাগরি: প্রযুক্তি ও জীবনযাপন
ছবি ক্রেডিট: এআই
একটা বিমান ২৩৯ জন মানুষ নিয়ে আকাশে উড়ল। কয়েক ঘণ্টা পর সেই বিমানটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অনুসন্ধানের বিষয় হয়ে গেল। রাডার থেকে অদৃশ্য, কোনো নিশ্চিত বিপদসংকেত নেই, নেই মূল ধ্বংসাবশেষের সন্ধান—শুধু ভারত মহাসাগরের বিশাল জলরাশি। ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে অনুসন্ধান, তবুও আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি—MH370-এর সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল?
৮ মার্চ ২০১৪। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪১ মিনিটে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর বিমানটি কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। বিমানে ছিলেন ২২৭ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু। শুরুতে যাত্রা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রায় ৪০ মিনিট পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
রাত ১টা ১৯ মিনিটে ককপিট থেকে আসে শেষ রেডিও বার্তা—“গুড নাইট, মালয়েশিয়ান থ্রি সেভেন জিরো।” এর পরপরই বিমানটির ট্রান্সপন্ডার সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায়। বেসামরিক রাডার থেকে বিমানটি অদৃশ্য হয়ে গেলেও পরে সামরিক রাডারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিমানটি নির্ধারিত পথ থেকে ঘুরে পশ্চিম দিকে চলে গেছে।
মালয় উপদ্বীপ পেরিয়ে বিমানটি আন্দামান সাগরের দিকে এগোয়। এরপর স্যাটেলাইটের তথ্য থেকে ধারণা করা হয়, সেটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যায় এবং আরও কয়েক ঘণ্টা আকাশে থাকার পর জ্বালানি শেষ হয়ে সাগরে পড়ে থাকতে পারে। কিন্তু ঠিক কোথায় বিমানটি শেষবার অবস্থান করেছিল, সেটি নিশ্চিত করা যায়নি।
এরপর শুরু হয় ইতিহাসের অন্যতম বড় বিমান অনুসন্ধান অভিযান। সমুদ্রের বিশাল এলাকায় বছরের পর বছর তল্লাশি চালানো হলেও বিমানের মূল ধ্বংসাবশেষ বা ফ্লাইট রেকর্ডার—যাকে আমরা সাধারণভাবে ব্ল্যাক বক্স বলি—এখনও উদ্ধার হয়নি।
তবে একেবারে কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি, এমন নয়। ভারত মহাসাগর এবং আফ্রিকার পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় বিমানের বেশ কিছু অংশ ভেসে আসে। এর মধ্যে কয়েকটি ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষার পর MH370-এর সঙ্গে নিশ্চিতভাবে মিল পাওয়া যায়। এসব প্রমাণ বিমানটির সম্ভাব্য শেষ অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে—বিমানটি কেন নির্ধারিত পথ ছেড়ে ঘুরে গেল?
এ নিয়ে একাধিক সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করেছিল কি না, কোনো গুরুতর যান্ত্রিক সমস্যা বা আগুনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, কিংবা বিমানটি অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে এসেছে। পাইলটের ফ্লাইট সিমুলেটরের কিছু তথ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসবের কোনোটিকেই MH370-এর চূড়ান্ত পরিণতির নিশ্চিত ব্যাখ্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি।
রহস্যের সমাধানে নতুন আশাও তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে। Ocean Infinity দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের বিশাল এলাকায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমুদ্রতল অনুসন্ধান শুরু করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জরিপ করা হলেও বিমানের মূল ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মেলেনি। পরে মালয়েশিয়া নতুন করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার জন্য চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ায়।
অর্থাৎ, এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও MH370-এর শেষ অধ্যায় এখনও অমীমাংসিত। ২৩৯ জন মানুষ নিয়ে উড়ে যাওয়া একটি আধুনিক বিমান কীভাবে এত বিশাল অনুসন্ধানের পরও সমুদ্রের গভীরে অদৃশ্য হয়ে থাকতে পারে—এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল
জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ: