← মূল পেজে ফিরে যান

কেন ভেঙে পড়েছিল কলম্বিয়া শাটল?

রিপোর্টার: সালমা জাহান | প্রকাশিত: 03 Oct 2026, 12:52 PM | ক্যাটাগরি: প্রযুক্তি ও জীবনযাপন
News Image
ছবি ক্রেডিট: এআই
ভাবুন, মহাকাশে ১৬ দিন নিরাপদে কাটিয়ে একটি স্পেস শাটল পৃথিবীতে ফিরছে। সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। ২০০৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারির সেই ঘটনায় প্রাণ হারান কল্পনা চাওলাসহ সাতজন মহাকাশচারী। পরে তদন্তে জানা যায়, বিপর্যয়ের শুরু হয়েছিল উৎক্ষেপণের সময়ই। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় ছিল, সেই ক্ষতটি বাইরে থেকে ছোট মনে হলেও মহাকাশযানের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সেটিই হয়ে উঠেছিল বড় ঝুঁকি। ঘটনাটি ঘটেছিল স্পেস শাটল কলম্বিয়ার STS-107 মিশনে। ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারি উৎক্ষেপণের প্রায় ৮২ সেকেন্ড পর বাহ্যিক জ্বালানি ট্যাংক থেকে একটি বড় টুকরো ইনসুলেশন ফোম আলাদা হয়ে যায়। সেটি প্রচণ্ড গতিতে এসে কলম্বিয়ার বাম ডানার সামনের অংশে আঘাত করে। আঘাতের জায়গাটি ছিল ডানার Reinforced Carbon-Carbon বা RCC প্যানেল, যা পুনঃপ্রবেশের সময় তৈরি হওয়া ভয়ংকর তাপ সামলানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই মুহূর্তে পৃথিবী থেকে দেখলে ঘটনাটি তেমন বড় কোনো বিপদের সংকেত মনে হয়নি। কলম্বিয়া তখন মহাকাশে নিজের নির্ধারিত কাজ চালিয়ে যায়। প্রায় ১৬ দিনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি শাটলটি পৃথিবীতে ফেরার প্রস্তুতি নেয়। এখানেই শুরু হয় আসল বিপদ। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় মহাকাশযানের চারপাশে প্রচণ্ড উত্তপ্ত গ্যাস তৈরি হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় তাপ প্রতিরোধী টাইল ও RCC প্যানেল এই তাপ থেকে শাটলকে রক্ষা করে। কিন্তু বাম ডানার সামনের অংশে ফোমের আঘাতে তৈরি ক্ষত দিয়ে উত্তপ্ত গ্যাস ভেতরে ঢুকলে ডানার অভ্যন্তরীণ কাঠামো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কলম্বিয়ার ক্ষেত্রেও শেষ পর্যন্ত ঠিক সেটিই ঘটে। ফেরার সময় ডানার ভেতরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যায়। অ্যালুমিনিয়ামের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করলে ডানাটি তার স্বাভাবিক শক্তি ও নিয়ন্ত্রণক্ষমতা হারায়। শাটলটি প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছিল বলে সামান্য কাঠামোগত ব্যর্থতাও দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়। শেষ পর্যন্ত সকালবেলার সেই পুনঃপ্রবেশের সময়, নির্ধারিত অবতরণের প্রায় ১৬ মিনিট আগে, কলম্বিয়া আকাশেই ভেঙে যায়। তদন্ত এখানেই থামেনি। দুর্ঘটনার পর NASA-র সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। কারণ আগের কয়েকটি শাটল মিশনেও বাহ্যিক ট্যাংকের ফোম খসে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও ঝুঁকিটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। কলম্বিয়া দুর্ঘটনা শুধু একটি মহাকাশযানের ব্যর্থতা ছিল না; এটি দেখিয়ে দিয়েছিল, মহাকাশ অভিযানে খুব ছোট বলে মনে হওয়া একটি ক্ষতিও কত বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। এই ঘটনার পর স্পেস শাটল কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হয়।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন