← মূল পেজে ফিরে যান

ব্ল্যাক হোল কীভাবে তৈরি হয়?

রিপোর্টার: সালমা জাহান | প্রকাশিত: 02 Oct 2026, 04:43 PM | ক্যাটাগরি: প্রযুক্তি ও জীবনযাপন
News Image
ছবি ক্রেডিট: এআই
ভাবুন, মহাকাশের এমন এক জায়গা, যেখানে ঢুকে গেলে আলোও আর ফিরে আসতে পারে না। কোনো নক্ষত্র, গ্রহ কিংবা মহাকাশযান—একবার নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলেই তার বেরিয়ে আসার পথ কার্যত বন্ধ। আরও অবাক করা বিষয় হলো, এই ভয়ংকর মহাকর্ষীয় অঞ্চল তৈরি হতে পারে একটি বিশাল নক্ষত্রের মৃত্যুর পর। কিন্তু কীভাবে একটি জ্বলন্ত নক্ষত্র শেষ পর্যন্ত এমন এক মহাজাগতিক ফাঁদে পরিণত হয়? আর ব্ল্যাক হোলের ভেতরে আসলে কী ঘটে? ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের অন্যতম চরম মহাকর্ষীয় বস্তু। এটি কোনো সাধারণ গর্ত নয়; বরং মহাকাশের এমন একটি অঞ্চল, যেখানে বিপুল ভর অত্যন্ত ছোট পরিসরে কেন্দ্রীভূত থাকে। ফলে এর মহাকর্ষ এত শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে একটি নির্দিষ্ট সীমার ভেতর থেকে আলোও বাইরে বের হতে পারে না। ব্ল্যাক হোলের জন্মের গল্প শুরু হয় একটি বিশাল নক্ষত্রকে দিয়ে। কোটি কোটি বছর ধরে নক্ষত্রের কেন্দ্রে পারমাণবিক সংযোজন চলতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি নক্ষত্রের ভেতর থেকে বাইরে চাপ তৈরি করে। অন্যদিকে নক্ষত্রের নিজস্ব মহাকর্ষ সবকিছুকে ভেতরের দিকে টানতে থাকে। এই দুই বিপরীত শক্তির ভারসাম্যেই নক্ষত্র স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু নক্ষত্রের কেন্দ্রে জ্বালানি একসময় কমে আসে। তখন বাইরের দিকে ঠেলে রাখার শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে। মহাকর্ষ আর বাধা না পেয়ে নক্ষত্রের কেন্দ্রকে দ্রুত সংকুচিত করতে শুরু করে। বিশাল নক্ষত্রের ক্ষেত্রে এই সংকোচনের সঙ্গে ভয়ংকর সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, যার ফলে নক্ষত্রের বাইরের স্তর মহাকাশে ছিটকে পড়ে। তবে সবকিছু সেখানেই শেষ হয় না। অবশিষ্ট কেন্দ্রের ভর যদি যথেষ্ট বেশি হয়, তাহলে এর সংকোচন থামানোর মতো কোনো পরিচিত চাপ আর কার্যকর থাকে না। সাধারণ আপেক্ষিকতার বর্ণনায়, এই পতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে কেন্দ্রে সিঙ্গুলারিটি তৈরি হওয়ার কথা বলা হয়। তবে সিঙ্গুলারিটির প্রকৃত ভৌত অবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞান এখনো সম্পূর্ণ উত্তর দিতে পারেনি। এই কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয় ইভেন্ট হরাইজন বা ঘটনা দিগন্ত। এটি কোনো শক্ত দেয়াল নয়, বরং এমন একটি সীমা—যার ভেতর থেকে বাইরে যাওয়ার কোনো ভবিষ্যৎ পথ আলোর জন্যও থাকে না। তাই ব্ল্যাক হোলকে আমরা সরাসরি দেখতে না পেলেও এর মহাকর্ষীয় প্রভাব শনাক্ত করতে পারি। ব্ল্যাক হোলের আশপাশে গ্যাস ও ধুলো থাকলে সেগুলো প্রচণ্ড গতিতে ঘুরতে ঘুরতে তৈরি করতে পারে অ্যাক্রিশন ডিস্ক। এই উত্তপ্ত পদার্থ থেকেই বিপুল পরিমাণ বিকিরণ বের হতে পারে। আবার ব্ল্যাক হোলের মহাকর্ষ আশপাশের আলোকে বাঁকিয়ে দিতে পারে, যাকে বলা হয় মহাকর্ষীয় লেন্সিং। শুধু তাই নয়, দুটি ব্ল্যাক হোল একে অপরকে প্রদক্ষিণ করে শেষ পর্যন্ত একীভূত হলে স্থান-কালে সৃষ্টি হতে পারে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। এসব সংকেত বিশ্লেষণ করেও বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। ২০১৯ সালে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ মেসিয়ার ৮৭ গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা অতিবৃহৎ ব্ল্যাক হোলের চারপাশের ছায়ার ঐতিহাসিক ছবি প্রকাশ করে। সেই পর্যবেক্ষণ ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব ও এর চারপাশের চরম মহাকর্ষীয় পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে। অর্থাৎ, ব্ল্যাক হোল শুধু একটি অন্ধকার মহাজাগতিক বস্তু নয়। এটি নক্ষত্রের মৃত্যু, মহাকর্ষ, আলো, স্থান-কাল এবং মহাবিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কিছু প্রশ্নকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করায়।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন