← মূল পেজে ফিরে যান

লেক ন্যাট্রনের পানি কেন রক্তের মতো লাল?

রিপোর্টার: সালমা জাহান | প্রকাশিত: 29 Sep 2026, 11:14 AM | ক্যাটাগরি: প্রযুক্তি ও জীবনযাপন
News Image
ছবি ক্রেডিট: গুগল
তানজানিয়ায় এমন একটি হ্রদ আছে, যার পানি দেখলে প্রথমে আপনার চোখকে বিশ্বাসই করতে চাইবে না। কখনো গোলাপি, কখনো কমলা, আবার কখনো একেবারে গাঢ় লাল—দূর থেকে দেখলে মনে হবে হ্রদের পানিতে যেন রক্ত মিশে আছে। কিন্তু আসলে এর পেছনে রয়েছে একেবারেই প্রাকৃতিক একটি কারণ। হ্রদটির নাম লেক ন্যাট্রন। লেক ন্যাট্রনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানকার পানি খুব লবণাক্ত এবং ক্ষারীয়। এই হ্রদ থেকে পানি কোনো নদী দিয়ে সাগরে চলে যায় না। বরং প্রচণ্ড গরমে পানি ধীরে ধীরে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। কিন্তু পানির সঙ্গে থাকা লবণ আর বিভিন্ন খনিজ থেকে যায়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হ্রদের পানিতে এসব উপাদানের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। শুনতে হয়তো মনে হচ্ছে, এমন জায়গায় কোনো প্রাণীই বাঁচতে পারবে না। কিন্তু প্রকৃতি এখানেও তার নিজস্ব নিয়ম দেখিয়েছে। এই কঠিন পরিবেশে কিছু বিশেষ ধরনের অণুজীব দিব্যি বেঁচে থাকে। তাদের মধ্যে রয়েছে হ্যালোআর্কিয়া এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়ার মতো অণুজীব। আর এই সায়ানোব্যাকটেরিয়ার কারণেই লেক ন্যাট্রনের পানিতে দেখা যায় সেই অদ্ভুত লালচে রং। এসব অণুজীবের শরীরে বিশেষ ধরনের রঞ্জক বা পিগমেন্ট থাকে। যখন পানিতে এদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়, তখন সেই রঞ্জকের প্রভাবও চোখে পড়ার মতো হয়ে ওঠে। সূর্যের আলো, পানির পরিমাণ আর অণুজীবের ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে হ্রদটি কখনো হালকা গোলাপি, আবার কখনো অনেক বেশি গাঢ় লাল দেখাতে পারে। তবে লেক ন্যাট্রনের আরেকটি চমৎকার দিক আছে। এত কঠিন পরিবেশের মধ্যেও এখানে লেসার ফ্লেমিঙ্গো দেখা যায়। এই পাখিরা অগভীর পানিতে থাকা অণুজীবসহ বিভিন্ন ছোট খাদ্য খায়। তাদের খাবারে থাকা প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থও ফ্লেমিঙ্গোর পালকে গোলাপি রং তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। আর মজার ব্যাপার হলো, লেক ন্যাট্রনকে সবসময় একই রকম দেখতে পাওয়া যায় না। বৃষ্টির পর পানির পরিমাণ বাড়লে একরকম, আবার শুকনো মৌসুমে পানি কমে গেলে অন্যরকম রং দেখা যেতে পারে। পানি যত কমে এবং লবণ ও অণুজীবের ঘনত্ব যত বাড়ে, লালচে রংও তত বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তাই লেক ন্যাট্রনের লাল পানি কোনো রহস্যময় ঘটনা নয়। প্রচণ্ড গরম, পানির বাষ্পীভবন, লবণাক্ততা, ক্ষারীয় পরিবেশ আর বিশেষ কিছু অণুজীব—সবকিছু মিলেই তৈরি করেছে এই আশ্চর্য দৃশ্য। দূর থেকে দেখতে ভয়ংকর মনে হলেও, এই লাল রঙের পেছনে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির অসাধারণ এক বিজ্ঞান। আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, যেখানে সাধারণ প্রাণীর টিকে থাকাই কঠিন, সেখানেও কিছু জীব নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দিব্যি বেঁচে আছে। লেক ন্যাট্রন যেন প্রকৃতির সেই কথাটাই মনে করিয়ে দেয়—জীবন টিকে থাকার পথ খুঁজে নিতে পারে প্রায় যেকোনো পরিবেশেই।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন