← মূল পেজে ফিরে যান

কীভাবে China Tobacco বিশ্বের সবচেয়ে বড় তামাক কোম্পানি হলো

রিপোর্টার: জুনায়েদ আল হাবীব | প্রকাশিত: 06 Sep 2026, 11:55 AM | ক্যাটাগরি: অর্থনীতি ও ব্যবসা
News Image
ভাবুন তো, এমন একটি ব্যবসা যেখানে মানুষ যত বেশি পণ্য কিনবে, কোম্পানির লাভ তত বাড়বে—কিন্তু সেই পণ্যই প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অবাক করা বিষয় হলো, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তামাক ব্যবসাগুলোর একটি পরিচালনা করে একটি রাষ্ট্র নিজেই। আজকের জাতীয় জার্নালের আলোচনায় থাকছে—চীনের বিশাল তামাক সাম্রাজ্য, China Tobacco। তামাকের ইতিহাস অবশ্য চীনে শুরু হয়নি। আমেরিকা মহাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী বহু শতাব্দী আগে তামাক ব্যবহার করত। ইউরোপীয়দের মাধ্যমে এটি ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিল্পবিপ্লব ও মেশিনের সাহায্যে সিগারেট উৎপাদন যখন ব্যাপক আকার নিতে শুরু করে, তখন তামাক আর শুধু একটি কৃষিপণ্য থাকেনি—এটি হয়ে ওঠে বিশাল এক ব্যবসা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেসরকারি কোম্পানিগুলো এই বাজার দখলের জন্য প্রতিযোগিতা করলেও চীনের গল্পটা কিছুটা আলাদা। ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠার পর অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাতের মতো তামাক শিল্পের ওপরও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে থাকে। পরবর্তী কয়েক দশকে তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়। এরপর আসে ১৯৮০-এর দশক। চীনের অর্থনীতিতে সংস্কার শুরু হলে তামাক শিল্পকেও আরও সংগঠিত করা হয়। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে China National Tobacco Corporation, যাকে সাধারণভাবে China Tobacco নামে পরিচিত করা হয়। আজ China Tobacco শুধু একটি কোম্পানির মতো কাজ করে না। এটি কার্যত চীনের বিশাল তামাক শিল্পের কেন্দ্রে অবস্থান করে। দেশের সিগারেট বাজারে এর আধিপত্য এতটাই বেশি যে চীনের তামাক ব্যবসা নিয়ে কথা বললে China Tobacco-কে বাদ দেওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এখানেই তৈরি হয় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। একদিকে সরকারকে জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে তামাক শিল্প থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ কর ও রাজস্ব পায়। ফলে তামাক নিয়ন্ত্রণ যত কঠোর হবে, রাজস্বের ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। এই দ্বন্দ্ব শুধু চীনের নয়। বিশ্বের বহু দেশেই তামাক থেকে আসা কর এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যে একটি জটিল সম্পর্ক রয়েছে। কারণ সিগারেটের ক্ষতি শুধু ফুসফুসে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধূমপান ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্বজুড়ে তামাক ব্যবহারকে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এখানেই ব্যবসার আরেকটি দিক সামনে আসে—বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডিং এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ। তামাক কোম্পানিগুলো ঐতিহাসিকভাবে শুধু পণ্য বিক্রি করেনি; তারা মানুষের কাছে ধূমপানকে একটি জীবনধারা হিসেবেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। সময়ের সঙ্গে অনেক দেশে বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় কঠোর বিধিনিষেধ এসেছে। কিন্তু বাজার তখন নতুন পথ খুঁজেছে। সিগারেটের পাশাপাশি এসেছে ই-সিগারেট, ভ্যাপিং এবং বিভিন্ন ধরনের নিকোটিন পণ্য। এগুলোকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চীনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে তামাক শিল্পের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক সরাসরি জড়িত। অর্থাৎ একই ব্যবস্থার একটি অংশ তামাক নিয়ন্ত্রণ করছে, আবার সেই তামাক শিল্প থেকেই বড় অঙ্কের রাজস্বও পাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো—একটি সরকার যখন একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক এবং তামাক ব্যবসার সবচেয়ে বড় অংশীদার হয়ে দাঁড়ায়, তখন জনস্বাস্থ্য কতটা অগ্রাধিকার পায়? এটাই China Tobacco-এর গল্পকে শুধু একটি কোম্পানির গল্প বানায় না। এটি দেখায়—একটি ক্ষতিকর পণ্য কীভাবে অর্থনীতি, রাজস্ব, ব্যবসা এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে একই সুতোয় জড়িয়ে যেতে পারে। এমন আরও অজানা অর্থনৈতিক গল্প ও বিশ্বের বড় ব্যবসাগুলোর নেপথ্যের হিসাব জানতে চোখ রাখুন জাতীয় জার্নাল-এ।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন