← মূল পেজে ফিরে যান

থাইল্যান্ডের ডার্ক ইকোনমি | Thailand's Night Economy

রিপোর্টার: আরাফাত শিমান্ত | প্রকাশিত: 04 Sep 2026, 08:12 PM | ক্যাটাগরি: অর্থনীতি ও ব্যবসা
News Image
থাইল্যান্ডকে আমরা সাধারণত দেখি নীল সমুদ্র, বিলাসবহুল রিসোর্ট, সুস্বাদু খাবার আর লাখো পর্যটকের দেশ হিসেবে। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে ছুটি কাটাতে। কিন্তু এই ঝলমলে পর্যটন শিল্পের আড়ালে থাইল্যান্ডের অর্থনীতি ও সমাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন একটি বিতর্কিত অধ্যায়, যেটা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই অস্বস্তি বোধ করেন। এই গল্পের শুরু কিন্তু আজকের থাইল্যান্ডে নয়। এর শিকড় খুঁজতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে। ষাটের দশকে আমেরিকান সেনাদের জন্য থাইল্যান্ড ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশ্রামকেন্দ্র। যুদ্ধের মানসিক চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে সৈন্যদের পাঠানো হতো ব্যাংকক ও পাতায়ার মতো এলাকায়। সেই সময় সৈন্যদের ঘিরে গড়ে ওঠে হোটেল, বার, বিনোদনকেন্দ্র এবং যৌন ব্যবসাকেন্দ্রিক একটি বিশাল পরিষেবা ব্যবস্থা। ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও সেই অবকাঠামো আর হারিয়ে যায়নি। বরং আশির দশকে থাইল্যান্ড যখন পর্যটনকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু করে, তখন যুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া বিনোদনকেন্দ্রগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য নতুন করে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই ধীরে ধীরে পাতায়া ও ব্যাংককের কিছু এলাকা রাতের অর্থনীতির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরেকটি কঠিন বাস্তবতা—দারিদ্র্য। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বা ফুকেটের মতো শহর যতটা উন্নত, দেশের কিছু গ্রামীণ অঞ্চল ততটাই পিছিয়ে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক পরিবার কৃষি ও অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব নিতে অনেক তরুণী শহরে কাজের সন্ধানে চলে আসে। কেউ স্বেচ্ছায়, আবার কেউ পারিবারিক চাপ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিতর্কিত এই খাতে ঢুকে পড়ে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—থাইল্যান্ডের পর্যটন মানেই এই ব্যবসা নয়। দেশটির পর্যটন অর্থনীতি অনেক বড় এবং বৈচিত্র্যময়। সমুদ্রসৈকত, দ্বীপ, ঐতিহাসিক স্থাপনা, খাবার, শপিং এবং মেডিকেল ট্যুরিজম—সব মিলিয়ে থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। আর এখানেই আসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। থাইল্যান্ডে যৌন ব্যবসা আইনত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এটি পুরোপুরি বন্ধ করা এত কঠিন কেন? বাস্তবে বিভিন্ন বার, ক্লাব ও ম্যাসাজ প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই কার্যক্রম চলার অভিযোগ বহুদিনের। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিপুল অর্থ, পর্যটন খাতের ওপর প্রভাব এবং স্থানীয় পর্যায়ের দুর্নীতির অভিযোগ। তাই সমস্যাটাকে শুধু আইন দিয়ে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। এর পেছনে রয়েছে যুদ্ধের ইতিহাস, অর্থনৈতিক বৈষম্য, পর্যটননির্ভর ব্যবসা, পারিবারিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক বাস্তবতা। থাইল্যান্ডের এই গল্প আসলে একটি দেশের অন্ধকার দিকের গল্পের চেয়েও বেশি কিছু। এটি দেখায়, কীভাবে যুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কয়েক দশক পরেও একটি দেশের সমাজ ও পর্যটনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন