← মূল পেজে ফিরে যান

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, শত শত নিখোঁজ; উদ্ধার ও ত্রাণে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ

রিপোর্টার: রাকিব হাসান | প্রকাশিত: 27 Aug 2026, 10:10 PM | ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক
News Image
‎নেপালের ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত দেশটির একাধিক এলাকা। বন্যা ও ভূমিধসে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৮২৬ জন এখনো নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। একই সময়ে মৃতের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রাণহানি ৩৫০ ছাড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ‎ ‎নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় নিখোঁজদের খুঁজে বের করা উদ্ধারকারী দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‎ ‎এই পরিস্থিতিতে নেপাল সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, সরকার তার সব ধরনের সম্পদ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত করেছে। নেপাল আর্মি, নেপাল পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্সের সদস্যরা দুর্গত এলাকায় কাজ করছেন। ‎ ‎জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভোতে কোশি বন্যাকবলিত এলাকায় ৭ হাজার ৪১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নেপাল পুলিশের ৩ হাজার ৩১৮ জন, সেনাবাহিনীর ২ হাজার ৩৫৫ জন এবং সশস্ত্র পুলিশের ১ হাজার ৭৪২ জন সদস্য রয়েছেন। উদ্ধারকাজে এখন পর্যন্ত ২৩৯টি হেলিকপ্টার ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে সেনাবাহিনীর ২১১টি এবং বেসরকারি হেলিকপ্টারের ২৮টি ফ্লাইট রয়েছে। ‎ ‎উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য জরুরি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। নেপাল আর্মি দুর্গত এলাকায় খাবার, তাঁবু ও ওষুধ পৌঁছে দিয়েছে। নুওয়াকোট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ব্যারাকগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‎ ‎আহতদের চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর বির হাসপাতাল ও ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে ১০০টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ‎ ‎তবে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো নিখোঁজ মানুষদের খুঁজে বের করা। পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ ধ্বংসাবশেষে পানি আটকে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ‎ ‎সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ ও পানির অবকাঠামো দ্রুত পুনর্গঠনের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‎ ‎অর্থাৎ এই মুহূর্তে নেপালের সরকারের মূল কার্যক্রম তিনটি—নিখোঁজদের উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি খাবার-আশ্রয়-চিকিৎসা দেওয়া এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো পুনর্গঠন। ‎ ‎তবে বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এতটাই বেশি যে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সময় যত যাচ্ছে, নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর উৎকণ্ঠাও তত বাড়ছে। ‎ ‎এখন নেপালের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—নিখোঁজ মানুষদের কত দ্রুত খুঁজে বের করা যায় এবং নতুন কোনো দুর্যোগের আগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে কতটা নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়। ‎

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন