← মূল পেজে ফিরে যান

কীভাবে দক্ষিণ কোরিয়া বদলে গেল?

রিপোর্টার: জুনায়েদ আল হাবীব | প্রকাশিত: 05 Sep 2026, 03:56 PM | ক্যাটাগরি: ভাইরাল ও ট্রেন্ডিং
News Image
একটা দেশ, যেখানে যুদ্ধের পর শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, মানুষের হাতে কাজ ছিল না, শিল্প ছিল প্রায় অচল। অথচ আজ সেই দেশই Samsung, Hyundai আর LG-এর মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানির জন্ম দিয়েছে। দেশটির নাম—দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু কীভাবে মাত্র কয়েক দশকে এত বড় পরিবর্তন সম্ভব হলো? ১৯৫৩ সালে কোরিয়ান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থা ছিল ভয়াবহ। অবকাঠামো ধ্বংস, দারিদ্র্য ব্যাপক, শিল্প উৎপাদন কম—দেশটির সামনে তখন উন্নয়নের চেয়ে টিকে থাকাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে প্রায় ৩৫ বছর জাপানের শাসনের অধীনে থাকার পর ১৯৪৫ সালে কোরিয়া স্বাধীন হয়। কিন্তু এরপরই দেশটি উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হয়ে যায়। শুরু হয় Cold War, আর ১৯৫০ সালে সেই উত্তেজনা রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে। যুদ্ধ শেষে দক্ষিণ কোরিয়া বুঝতে পারে—শুধু বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর করে কোনো দেশ শক্তিশালী হতে পারে না। পরিবর্তনের বড় অধ্যায় শুরু হয় ১৯৬১ সালে Park Chung-hee-এর ক্ষমতায় আসার পর। তিনি ছিলেন কঠোর সামরিক শাসক এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ ছিল। কিন্তু অর্থনীতির ক্ষেত্রে তিনি নেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। লক্ষ্য ছিল একটাই—দক্ষিণ কোরিয়াকে একটি export-oriented industrial economy বানানো। সরকার ব্যাংক ঋণ, বিনিয়োগ ও নীতিগত সুবিধার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শিল্পকে দ্রুত বড় হতে সাহায্য করে। এভাবেই Samsung, Hyundai, LG-এর মতো বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বা Chaebol শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তবে তাদের সুবিধার বিনিময়ে ছিল কঠিন শর্ত—উৎপাদন বাড়াতে হবে, রপ্তানি বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে। একই সময়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ফলে দক্ষিণ কোরিয়া পায় অর্থ, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাও দেশটির অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করে। এরপর শুরু হয় শিল্পায়নের দৌড়। হালকা শিল্প থেকে শুরু করে স্টিল, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স ও গাড়ি উৎপাদন—এক এক করে নতুন শিল্প গড়ে উঠতে থাকে। POSCO-এর মতো প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে। কিন্তু এই উন্নয়নের পেছনে ছিল একটি বড় মূল্যও—রাজনৈতিক স্বাধীনতা। ১৯৭৯ সালে Park Chung-hee নিহত হন। এরপরও সামরিক শাসন চলতে থাকে এবং ১৯৮০ সালের Gwangju আন্দোলনের মতো ঘটনায় গণতন্ত্রের দাবি আরও জোরালো হয়। অবশেষে ১৯৮৭ সালের গণআন্দোলনের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় বড় ধরনের গণতান্ত্রিক সংস্কার আসে। তবুও গল্প এখানেই শেষ নয়। ১৯৯৭ সালের Asian Financial Crisis দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিকে আবারও বড় ধাক্কা দেয়। দেশকে IMF-এর সহায়তা নিতে হয়। আর তখন সাধারণ মানুষ এমন একটি কাজ করে, যা আজও ইতিহাসে স্মরণীয়—Gold Collection Movement। হাজার হাজার মানুষ নিজেদের সোনা ও গয়না দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দান করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া সংকট কাটিয়ে আবারও শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হয়। আজকের দক্ষিণ কোরিয়ার গল্প তাই শুধু Samsung বা Hyundai-এর গল্প নয়। এটি দেখায়—দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শিল্পনীতি, প্রযুক্তি, রপ্তানি এবং মানুষের অংশগ্রহণ একসঙ্গে কাজ করলে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশও কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির শক্তিশালী খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারে।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ:

আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন