← মূল পেজে ফিরে যান
মরিশাস কেন এত উন্নত?
রিপোর্টার: সালমা জাহান |
প্রকাশিত: 09 Oct 2026, 08:16 AM |
ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক
ছবি ক্রেডিট: এআই
ভাবুন তো, এমন একটি দেশ, যেখানে একদিকে নীল সমুদ্র আর সাদা বালুর সৈকত, অন্যদিকে আগ্নেয়গিরির তৈরি পাহাড়, সবুজ উপত্যকা আর নানা সংস্কৃতির মানুষের বসবাস! শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণেও দেশটি আফ্রিকার অন্য অনেক দেশের তুলনায় আলাদা। দেশটির নাম মরিশাস। কিন্তু ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র কীভাবে পর্যটননির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি শিল্প ও সেবাখাতেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছে?
আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মরিশাস। দেশটির আয়তন প্রায় ২ হাজার ৪০ বর্গকিলোমিটার এবং রাজধানী পোর্ট লুইস। আয়তনে ছোট হলেও অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে এটি আফ্রিকার উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর একটি। ১৯৬৮ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশটি ধীরে ধীরে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বহুমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
মরিশাসের সবচেয়ে বড় পরিচয় এর বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি। চারপাশে প্রবালপ্রাচীর ঘেরা সমুদ্র, স্বচ্ছ নীল পানি আর দীর্ঘ বালুকাবেলা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে দেশটির সৌন্দর্য শুধু সমুদ্রসৈকতেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে রয়েছে শ্যামারেলের বিখ্যাত সাত রঙের ভূমি, যেখানে মাটির বিভিন্ন স্তরে নানা রঙের উপস্থিতি দেখা যায়। রয়েছে সবুজ পাহাড়, জলপ্রপাত এবং উদ্ভিদে সমৃদ্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেন।
সমুদ্রের মধ্যে দেখা যায় আরেকটি আশ্চর্য দৃশ্য, যাকে বলা হয় ‘আন্ডারওয়াটার ওয়াটারফল’। তবে এটি প্রকৃত কোনো জলপ্রপাত নয়। সমুদ্রের তলদেশের বালু ও পলির স্রোত এবং পানির রঙের পার্থক্যের কারণে ওপর থেকে এমন দৃশ্য তৈরি হয়। এই প্রাকৃতিক বিভ্রম মরিশাসকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
দেশটির সমাজব্যবস্থাও বেশ বৈচিত্র্যময়। ভারতীয়, আফ্রিকান, ইউরোপীয় ও চীনা বংশোদ্ভূত মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা এখানে বসবাস করেন। হিন্দুধর্ম দেশটির প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে। ইংরেজি ও ফরাসির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কথাবার্তায় মরিশিয়ান ক্রেওল ভাষার ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। হিন্দি ও ভোজপুরিও প্রচলিত। বিভিন্ন সংস্কৃতির এই সহাবস্থান মরিশাসের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এবার আসা যাক অর্থনীতিতে। একসময় আখ চাষের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে পর্যটন, বস্ত্রশিল্প, আর্থিক সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি দেশটির আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তুলনামূলক উন্নত অবকাঠামোও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ থেকেও অনেকে কাজের উদ্দেশ্যে মরিশাসে যান, বিশেষ করে পোশাকশিল্প ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর খাতে। তবে বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে বেতন, চুক্তি, থাকা-খাওয়ার খরচ এবং বৈধ নিয়োগের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি।
মরিশাসে প্রচলিত অর্থ হলো মরিশিয়ান রুপি। ২০২৬ সালে দেশটির জাতীয় ন্যূনতম মাসিক মজুরির একটি বহুল উল্লেখিত হার ১৭ হাজার ১১০ রুপি হলেও কাজের ধরন, প্রযোজ্য নিয়ম ও অন্যান্য সুবিধা অনুযায়ী প্রকৃত আয় ভিন্ন হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মরিশাস কেবল সুন্দর সৈকতের দেশ নয়; এটি এমন একটি দ্বীপরাষ্ট্র, যেখানে প্রকৃতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন পাশাপাশি এগিয়েছে। আর এই ছোট্ট দেশটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, সীমিত ভূখণ্ড নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ব্যবসার মানচিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করা।
এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল
জাতীয় জার্নাল ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওসমূহ: